“আমার জীবনে অন্য এক মহিলা আছে, কিন্তু তোমাকেও ভালোবাসি” — মেয়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মহেশ ভট্ট

মেয়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মহেশ ভট্ট! বলিউডের বর্ষীয়ান পরিচালক মহেশ ভট্ট তাঁর স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য বরাবরই পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায় নিয়েও তিনি কখনও মুখ বন্ধ রাখেননি। সম্প্রতি কন্যা…

October 2, 2025
1 min read

মেয়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মহেশ ভট্ট!

বলিউডের বর্ষীয়ান পরিচালক মহেশ ভট্ট তাঁর স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য বরাবরই পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায় নিয়েও তিনি কখনও মুখ বন্ধ রাখেননি। সম্প্রতি কন্যা পূজা ভট্টের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তে নিজের অতীতের এক অধ্যায় উজাড় করে দিলেন মহেশ। স্বীকার করলেন, কীভাবে কিরণ ভট্টের সঙ্গে সংসার করতে করতেই সোনি রাজ়দানের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি এবং সেই সময় মেয়েকে কী বলেছিলেন।

📍 দাম্পত্যে থেকেও অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া
কিরণ ভট্টের সঙ্গে বিয়ের পর মহেশের জীবনে আসে দুই সন্তান — পূজা এবং রাহুল। সুখী সংসারে সময় কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই সময়েই মহেশের জীবনে প্রবেশ করেন অভিনেত্রী সোনি রাজ়দান। ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে এবং এক সময় মহেশ সিদ্ধান্ত নেন সোনিকেই বিয়ে করবেন।

এই সিদ্ধান্ত ছিল কিরণ, পূজা ও রাহুল — সবার কাছেই এক বিরাট ধাক্কা। সংসার ভাঙনের আশঙ্কায় যখন চারপাশ উত্তাল, তখনও পূজা বাবার পাশে ছিলেন। সেই স্মৃতি আজও গভীরভাবে মনে রেখেছেন মহেশ।

📍 মেয়ের সামনে অকপট স্বীকারোক্তি
সাক্ষাৎকার চলাকালীন পূজার সামনে বসেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মহেশ। কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর। তিনি বলেন, “তোমার মনে আছে, আমি একদিন তোমাকে বলেছিলাম — আমি আর তোমাদের সঙ্গে থাকব না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি তোমাদের প্রত্যাখ্যান করছি। আমার জীবনে একজন অন্য মহিলা এসেছে, কিন্তু আমি তোমাকেও ভালোবাসি। আমি তোমার মা এবং এই বাড়ির যত্ন নেব।”

এই কথা বলতে বলতেই চোখে জল এসে যায় মহেশের। কন্যার সামনে অনুতাপ আর আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর বলেন, “আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করতে পারব না, পূজা। কারণ সেই সময় তুমিই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলে। আমি ভাবতাম, অন্তত তুমি আমাকে ঘৃণা করবে না, খারাপ চোখে দেখবে না।”

📍 পূজার উত্তরে আরও আবেগঘন মুহূর্ত
মেয়ের উত্তর শুনে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মহেশ। পূজা শান্ত গলায় বলেন, “আমি কখনওই তোমাকে খারাপ চোখে দেখিনি, বাবা।” সেই কথার মধ্যেই যেন মিশে ছিল ক্ষমা, বোঝাপড়া আর নিঃশর্ত ভালোবাসা।

📍 সোনির সঙ্গেও পূজার সম্পর্ক উষ্ণই থেকেছে
সোনিকে বিয়ে করার পরেও পূজা বাবার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে দেননি। বরং সোনি রাজ়দানের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক বজায় ছিল। এমনকি, বিয়ের বহু বছর পরে নাকি সোনি নিজেও পূজার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন সেই অতীতের জন্য।

📍 এক পিতার অনুশোচনা, এক কন্যার ক্ষমা
মহেশ ভট্টের এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনার কথা নয়, এটি এক বাবা-কন্যার সম্পর্কের গভীরতার প্রতিচ্ছবি। জীবনের সিদ্ধান্তে ভুল হলেও সেই সম্পর্কের বাঁধন আলগা হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও মজবুত হয়েছে।

জীবনের সেই অধ্যায় আজও মহেশের হৃদয়ে অনুশোচনার দাগ রেখে গেছে। আর পূজা ভট্ট প্রমাণ করেছেন, ভালোবাসা এবং ক্ষমা যে কোনও ক্ষতের উপরেই প্রলেপ দিতে পারে।

শেষ কথা: ভালোবাসা কখনও সাদা-কালো হয় না। তার মধ্যে থাকে ভুল, অনুশোচনা, ক্ষমা আর বোঝাপড়া। মহেশ ভট্ট ও পূজার সম্পর্ক তার এক জীবন্ত প্রমাণ।

পুজোর আনন্দে সুস্থ থাকুন: পুষ্টিবিদের ৫টি সহজ টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *