জ়ুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় শ্যামকানু সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ!
সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে শোক এবং জল্পনা ক্রমেই গভীর হচ্ছে, কারণ জনপ্রিয় শিল্পী জ়ুবিন গার্গের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। গত বুধবার, জ়ুবিনের ঘনিষ্ঠ সহকারী সিদ্ধার্থ শর্মা এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক শ্যামকানু মহন্তকে অসম পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপরই মহন্ত সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন, মামলাটিকে অসম পুলিশের হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে।
শ্যামকানু মহন্তের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কোনও অপরাধের ছক আগেই ঠিক করে, আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।” অভিযুক্তের দাবি, তাঁর ওপর সাজানো পরিকল্পিত ফাঁসাচালাই ঘটছে। এই আবেদনের সঙ্গে তিনি চাইছেন, যে কোনো পক্ষপাতমূলক তদন্ত বা অত্যধিক চাপ থেকে মুক্তি মিলুক।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার শোনা গিয়েছিল যে জ়ুবিন গার্গ স্কুবা ডাইভিং করার সময় মৃত্যুবরণ করেননি। বরং তিনি সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গিয়েছেন। শুক্রবার সেই গুঞ্জনের সত্যতা মেলানো হলো। সিঙ্গাপুর সরকারের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জ়ুবিন গার্গ একটি দ্বীপে সাঁতার কাটার সময় দুর্ঘটনাগ্রস্ত হন। এই রিপোর্ট গায়কের স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন তথ্য মামলার গতিপ্রকৃতিকে বদলে দিতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কুবা ডাইভিং নয়, সাধারণ সাঁতারই মৃত্যুর কারণ। তবে তদন্ত কতদূর এগোতে পারে এবং অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
শ্যামকানু মহন্তের সুপ্রিম কোর্টের আবেদন এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যমে নতুনভাবে জল্পনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, মামলাটির তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আদালতই একমাত্র নির্ভরযোগ্য জায়গা। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তের গতিপ্রকৃতি, অভিযোগ ও ফাঁসাচালাই সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় এখন সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির অধীনে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—তাতে ব্যক্তিগত, প্রশাসনিক এবং আইনি জটিলতা যুক্ত রয়েছে। সঙ্গীতপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষ উভয়েই অপেক্ষা করছেন আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সমাধান না আসা পর্যন্ত এই রহস্যময় ঘটনা নিয়ে আলোচনা থামার সম্ভাবনা নেই।
জানতে হবে, এই সুপ্রিম কোর্টের প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে এবং অভিযুক্ত শ্যামকানুর আবেদন কতটা কার্যকর হবে। পাশাপাশি, সিঙ্গাপুরের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে যা বলা হয়েছে, তা কি মামলা চলাকালীন প্রধান প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে—এই প্রশ্নও সময়ের সঙ্গে উত্তর পাবে।
কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা