১৯৭১-এর পর প্রথম দেশজুড়ে অসামরিক মহড়া!
ভারতের সামরিক ইতিহাসে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এক বড় মাইলফলক। তবে সেই সময়ের পর আর কখনও এত বড় পরিসরে দেশজুড়ে অসামরিক মহড়া হয়নি। প্রায় ৫৩ বছর পর আবারও যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতির জন্য দেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী বুধবার, গোটা ভারতে একযোগে চালানো হবে অসামরিক মহড়া। এর আওতায় পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেরও ৩১টি এলাকা।
এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য — সাধারণ মানুষকে যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের সময় কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হয়, সে বিষয়ে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৭টি রাজ্য এবং আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ২৫৯টি জায়গায় এই মহড়া হবে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলেছে।
মহড়ার মূল বার্তা হলো — “প্রস্তুতি থাকলেই রক্ষা সম্ভব।”
কী থাকবে মহড়ায়?
এই মহড়ায় মূলত বিমান হামলার পরিস্থিতি কল্পনা করে বিভিন্ন ধাপে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। যেমন, সতর্কতামূলক সাইরেন ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। রাতে হামলা হলে সমস্ত আলো নিভিয়ে ‘ক্র্যাশ ব্ল্যাকআউট’-এর মহড়াও করা হবে যাতে শত্রু বিমানের নজর এড়ানো যায়।
এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, সেতু, তেলের ডিপো, রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দরগুলিকে ঢেকে রাখা বা লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থাও মহড়ার অন্তর্ভুক্ত। কারণ, যেকোনও সম্ভাব্য শত্রু হামলা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।
মানুষের অংশগ্রহণ এবং প্রশিক্ষণ
এই মহড়া শুধু প্রশাসনিক স্তরে নয়, নাগরিকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণে হবে। জেলা প্রশাসন, হোমগার্ড, অসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকরা স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ সেশন করবেন। তাঁদের শেখানো হবে, হামলা বা বিপর্যয়ের সময়ে কীভাবে শান্ত থেকে নিরাপদ স্থানে সরতে হয়, কীভাবে সংকট মোকাবিলায় একে অপরকে সহযোগিতা করতে হয়।
একই সঙ্গে প্রতিটি জেলা কন্ট্রোল রুম এবং ছায়া কন্ট্রোল রুমের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি নিকটবর্তী বায়ুসেনা ঘাঁটির সঙ্গে ‘হটলাইন’ সংযোগ কেমন কাজ করছে, সেটাও দেখা হবে।
কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে এই মহড়া?
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে সরকার চায়, দেশের ভিতরকার প্রতিটি নাগরিক এবং পরিকাঠামো যেন যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে পারে।
একটা সময় ‘সিভিল ডিফেন্স’-এর মতো শব্দ ছিল কেবল বইয়ের পাতায়। এখন সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই বাস্তবে রূপ পাচ্ছে — কারণ শুধু সেনা নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকই হয়ে উঠতে পারেন প্রতিরোধের একেকটি স্তম্ভ। বুধবারের মহড়া সেই প্রস্তুতিরই এক জোরদার পদক্ষেপ।
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের