আনন্দপুরে গেস্ট হাউস কাণ্ড!
আনন্দপুরের একটি গেস্ট হাউস ঘিরে সম্প্রতি যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তা এখন কলকাতা জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে। একের পর এক জিজ্ঞাসাবাদ, পুলিশের হানা এবং ধৃতদের পরিচয় ঘিরে গুঞ্জন—এই সবের মাঝেই এবার মুখ খুললেন গেস্ট হাউসের মালিক। তাঁর সাফ কথা, “তাঁরা (ধৃতরা) শুক্রবার এসেছিলেন। বৈধ পরিচয়পত্রও দেখিয়েছিলেন। আমরা নিয়ম মেনেই তাঁদের ঘর দিয়েছিলাম।”
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। কলকাতার আনন্দপুর এলাকায় একটি অভিজাত গেস্ট হাউসে আচমকা অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে—কেউ পরিচয় গোপন করেছেন, কেউ আবার সন্দেহজনকভাবে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরেই কাটাচ্ছেন। পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল, এই গেস্ট হাউসে কিছু ‘আনসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি’ চলতে পারে। সেই সূত্রেই ছিল এই হানা।
তবে এখন, মালিকের বক্তব্যে নতুন মোড় নিতে পারে গোটা ঘটনা। তিনি বলেন, “তাঁরা অনলাইনেই বুকিং করেছিলেন। রিজার্ভেশন চলাকালীন আমরা তাঁদের পরিচয়পত্র চেয়েছিলাম। তাঁরা আধার কার্ড ও ভোটার আইডির স্ক্যান কপি পাঠান। এখানে আসার পরও মূল পরিচয়পত্র দেখান। এরপরই আমরা নিয়ম মেনেই ঘর দিয়েছিলাম।”
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, যদি পরিচয়পত্র দেখানো হয় এবং রেজিস্টারে নাম তোলা থাকে, তবে গেস্ট হাউস কতটা দায়ী? একাংশের মতে, শুধু অনলাইন বা ফিজিক্যাল চেক-ইন যথেষ্ট নয়, এমন সময় সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে কর্তৃপক্ষের উচিত পুলিশকে আগেভাগেই সতর্ক করা। আবার, অন্যদিকে, মালিকের কথায় যে অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে, তাও অস্বীকার করা যায় না।
মালিক আরও বলেন, “আমরা ছোট খাট ব্যবসা করি। প্রতিদিন নানা জায়গা থেকে অতিথিরা আসেন। তাঁদের সবাইকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখলে তো ব্যবসা চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
ঘটনার পরে ওই গেস্ট হাউসের বাকি ঘরগুলিও খতিয়ে দেখে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কর্মচারীদেরও। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু না বললেও তদন্ত চালাচ্ছে পুরোদমে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই ঘটনার পর চিন্তিত। তাঁদের প্রশ্ন—“এই এলাকায় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল? এত নিরাপত্তার মধ্যেও এমন প্রবেশ কীভাবে সম্ভব?”
এখন পুলিশ অপেক্ষাকৃত বেশি তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত। আটক ব্যক্তিদের অতীত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তের অগ্রগতির উপর।
তবে মালিকের দাবিতে একটাই বার্তা স্পষ্ট—তিনি নিজে কোনও বেআইনি কাজে জড়িত ছিলেন না। সব কিছুই নিয়ম মেনেই হয়েছে তাঁর তরফে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কোনদিকে মোড় নেয় এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও বড় অভিযোগ প্রমাণ হয় কি না। কলকাতার শান্তিপ্রিয় একটি আবাসিক এলাকায় এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রান্নাঘরের ধোঁয়ার গন্ধ যাচ্ছে না? ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন এই অসুবিধা