আট ঘণ্টার তর্কের মাঝেই অন্য ছবি!
বলিউডে কাজের সময় নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কিন্তু সম্প্রতি সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তাঁর স্পষ্ট দাবি—তিনি দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না। এই কথার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয়েছে তর্ক। কেউ বলছেন, কাজের পরিবেশ আর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এই দাবি একেবারেই যুক্তিসঙ্গত। আবার কেউ মনে করছেন, বলিউডের বাস্তবতায় এমন নিয়ম মানা কঠিন। এই তর্কের মধ্যেই সামনে এল আর এক চমকপ্রদ তথ্য—৮৩ বছর বয়সে অমিতাভ বচ্চন ঠিক কতক্ষণ কাজ করেন?
সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র একটি পর্বে অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ খ্যাত অভিনেতারা—মনোজ বাজপেয়ী, শারিব হাশমী এবং জয়দীপ অহলওয়াত। সেই পর্বের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই পরে একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন শারিব। আর সেখানেই উঠে এসেছে অমিতাভের কাজের অবিশ্বাস্য রুটিন।
শারিবের কথায়, অমিতাভের দিন শুরু হয় সকাল ৯টায়। আর শেষ হয় প্রায় মধ্যরাতে। শুধু তা-ই নয়, এক দিনেই নাকি পর পর তিনটি এপিসোডের শুটিং করেন তিনি। এত দীর্ঘ সময় কাজ করার পরেও ক্লান্তির ছাপ নাকি তাঁর মধ্যে একেবারেই ধরা পড়ে না। বরং শুটিংয়ের শেষ মুহূর্তেও তাঁর উদ্যম দেখে অবাক হয়ে যান সহ-অভিনেতারা।
৮৩ বছর বয়সে এমন কর্মক্ষমতা দেখে মুগ্ধ শারিব বলেন, “ওঁর শক্তি একেবারেই অন্য মাত্রার। কুর্নিশ জানাই। এই বয়সেও এক দিনে টানা তিনটি এপিসোডের শুটিং করেন। সকাল ৯টায় সেটে পৌঁছে যান, রাত পর্যন্ত কাজ করেন। আমাদের এপিসোডের শুটিং ছিল রাত ১২টায়। এত রাতেও দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে উনি ক্লান্ত।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সত্যি বলতে কী, এত রাতের শুটিংয়ে আমাদের তো একটু ঘুমিয়ে নিতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু অমিতাভের উদ্যম দেখলে সেটা মুখেও বলা যায় না। এত বড় তারকা হওয়া যে কতটা কঠিন, সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেন তিনি।”
এই অভিজ্ঞতা শারিবের কাছে যেন স্বপ্নের মতো। তাঁর কথায়, “মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি। দিনটা অসাধারণ ছিল। সারাজীবন এই স্মৃতি আমার সঙ্গে থাকবে।”
এই প্রসঙ্গেই আবার ফিরে আসছে দীপিকার আট ঘণ্টার কাজের দাবি। এক দিকে অভিজ্ঞ, কিংবদন্তি এক অভিনেতা যিনি বয়সকে তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ সময় কাজ করে চলেছেন। অন্য দিকে, বর্তমান প্রজন্মের এক অভিনেত্রী, যিনি কাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময়ের ভারসাম্য রাখতে চান। দু’টি অবস্থানই আলাদা, দু’টিই তাদের নিজস্ব বাস্তবতায় সঠিক।
আসলে এই বিতর্ক কোনও তুলনার নয়। বরং বলিউডের বদলে যাওয়া সময়ের ছবি। কেউ অভিজ্ঞতার জোরে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান, কেউ আবার সীমা টেনে সুস্থ ভাবে দীর্ঘ পথ চলতে চান। আর সেই নানা পথের মাঝেই আজও এক নাম আলাদা করে উজ্জ্বল—অমিতাভ বচ্চন।