একলা বেড়ালেও দুর্দান্ত ছবি-ভিডিয়ো সম্ভব!
ঝর্ণার ধারে পাথর টপকে লাফিয়ে চলা, জলের ছিটে ছুঁড়ে আনন্দে ভেসে যাওয়া— এই রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে কে না চায়! কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন সঙ্গে কেউ নেই ছবি বা ভিডিও তোলার জন্য। কখনও আবার সঙ্গে থাকা বয়স্ক বাবা-মায়ের পক্ষে সঠিক কোণ বা সময় ধরাও সম্ভব হয় না। ফলে, মন মতো ছবি বা ভিডিওর স্বপ্ন অনেক সময় অপূর্ণ থেকে যায়। অথচ নিজের ছবি বা ভিডিও নিজেই তোলা কিন্তু মোটেই কঠিন নয়— দরকার কেবল কিছু কৌশল আর পরিকল্পনার।
১. ট্রাইপড, গরিলা পড ও সেলফি স্টিক রাখুন সঙ্গে
ছবি বা ভিডিও নিজে তুলতে চাইলে এগুলি অপরিহার্য। এগুলি আকারে ছোট, ওজনে হালকা, সহজেই ব্যাগে রাখা যায়। সেলফি স্টিক দিয়ে যেমন ছবি তোলা যায়, তেমনি ভিডিও করাও সম্ভব। স্টিকের স্ট্যান্ড ঠিক জায়গায় বসিয়ে ক্যামেরা ফোকাস করে রেখে দিন। রিমোট বোতামের সাহায্যে দূর থেকে বসে বা দাঁড়িয়ে শুটিং শুরু ও বন্ধ করতে পারবেন।
গরিলা পডের ত্রিপায়া পা ইচ্ছেমতো বাঁকানো যায়, ফলে গাছের ডাল, রেলিং বা অনিয়মিত জায়গাতেও সেট করা যায়। এতে নানা কোণ থেকে ভিডিও বা ছবি তোলা সহজ হয়।
২. সঠিক ক্যামেরা বেছে নিন
ট্রাভেল ভিডিওর জন্য এমন ক্যামেরা নির্বাচন করুন, যা ছোট ও হালকা কিন্তু মানসম্পন্ন ভিডিও তুলতে সক্ষম। স্ক্রিন ঘুরিয়ে নিজের শট দেখা যায় এমন ক্যামেরা হলে আরও সুবিধা হয়।
৩. লেন্সের ব্যবহারে আনুন বৈচিত্র্য
ভালো স্মার্টফোন দিয়েও আজকাল এইচডি ভিডিও তোলা সম্ভব। তবে ভিডিওকে পেশাদার লুক দিতে চাইলে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বা নির্দিষ্ট দূরত্বের লেন্স ব্যবহার করুন। চওড়া ভিউ পেতে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স বিশেষ উপযোগী।
৪. মাইক্রোফোন ব্যবহার করুন পরিষ্কার শব্দের জন্য
একলা ভ্লগিং করলে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট রাখতে বাহ্যিক মাইক্রোফোন ব্যবহার করুন। এমনকি প্রকৃতির শব্দ, নদীর ধারা বা পাখির ডাক রেকর্ড করতেও মাইক্রোফোন দারুণ কাজে দেয়।
৫. ট্রাইপড কাজে লাগান নাটকীয় ভিডিওর জন্য
স্লো মোশন বা টাইম ল্যাপস মোড ভিডিওকে করে তুলতে পারে আরও আকর্ষণীয়। এই ফিচারগুলির জন্য ট্রাইপড বা গরিলা পড ব্যবহার করলে শট আরও নিখুঁত হয়।
৬. শট পরিকল্পনা করুন আগে থেকেই
ভিডিও শুরুর আগে ঠিক করুন আপনি কী দেখাতে চান। যদি দেখাতে চান আপনি হেঁটে যাচ্ছেন বা ছুটছেন, তবে ক্যামেরা স্থির রেখে হাঁটুন বা দৌড়ান। ক্যামেরা পেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভিডিওকে করে তুলবে আরও পেশাদার। প্রয়োজনে কোণ বা দিক পরিবর্তন করে শটে বৈচিত্র আনুন।
৭. এডিটিং-এ দিন সময়
ভালো ভিডিও তৈরি করতে এডিটিং অপরিহার্য। অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিন, আলো ও শব্দ ঠিক করুন। অনেক ফ্রি অ্যাপ রয়েছে যেগুলি সহজেই ভিডিও সম্পাদনা করতে সাহায্য করবে।
একলা ভ্রমণ মানেই যে ছবি বা ভিডিও তোলার ঝামেলা, তা নয়। একটু কৌশল আর প্রস্তুতি থাকলে আপনি নিজেই হয়ে উঠতে পারেন নিজের ফটোগ্রাফার ও ভিডিয়োগ্রাফার। নিজের চোখে দেখা মুহূর্তগুলো নিজের হাতেই ধরে রাখতে পারবেন সুন্দরভাবে, আর সেই স্মৃতিগুলো থাকবে চিরদিনের জন্য।
কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা