আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা!
আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম দিনের শুনানি শেষ হতেই প্রশ্ন উঠল—এই মুহূর্তে পাল্লা কার দিকে ঝুঁকল? রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের, না কি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির? উত্তরটা একেবারে সাদা-কালো নয়। কারণ, আদালতের নির্দেশ এক দিকে ইডির পক্ষে গেলেও, পর্যবেক্ষণগুলিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে রাজ্য ও শাসকদলের যুক্তির দিকেও।
শীর্ষ আদালত আপাতত ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশের করা চারটি এফআইআরের তদন্তে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে পুলিশ ইডির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সব ফুটেজ ও নথি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
এই নির্দেশকে বিজেপি দেখছে রাজ্য সরকারের ‘পরাজয়’ হিসেবে। কিন্তু তৃণমূলের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মামলা তো শেষ হয়নি। ইডির তল্লাশির পরে যে পঞ্চনামা লেখা হয়েছে, সেটাও আমাদের কাছে আছে। প্রয়োজনে সব তথ্য আদালতে তুলে ধরা হবে।” তাঁর প্রশ্ন, “আইপ্যাকের অফিস তো অন্য শহরেও রয়েছে। শুধু বাংলাতেই অভিযান কেন?”
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানির পরে জানান, সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে—কেন্দ্রীয় সংস্থা কাজ করতে গিয়ে রাজ্যের হস্তক্ষেপ যেমন প্রশ্নের, তেমনই নির্বাচনের সময়ে বিরোধীশাসিত রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘বিশেষ তৎপরতাও’ বিচারযোগ্য বিষয়।
এই মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইপ্যাক দফতরে ইডির তল্লাশি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে উপস্থিতি। ইডির দাবি, এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত, এবং তা রাজ্যের বাইরে থেকে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসি রাজু আদালতে বলেন, “এই মামলা ব্যতিক্রমী। এখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযুক্ত।”
এর জবাবে রাজ্য সরকারের পক্ষে কপিল সিব্বল সাফ জানান, মমতা সেখানে গিয়েছিলেন তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়। তাঁর দাবি, ইডির অভিযোগ অনুযায়ী একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস নেওয়ার কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শুধু একটি ল্যাপটপ ও একটি আইফোন নেওয়া হয়েছিল, তাও ব্যক্তিগত সামগ্রী হিসেবে। সিব্বলের যুক্তি, ভিডিও ফুটেজ দেখলেই সব স্পষ্ট হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে এসেছে আদালতের পর্যবেক্ষণে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে—
- কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
- আবার একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, গুরুতর অপরাধের তদন্ত যদি সৎ উদ্দেশ্যে হয়, তবে শুধুমাত্র ‘দলের কাজ’ বলেই কি তা থামানো যাবে?
- কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় পক্ষের সংস্থাকেই স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
আদালতের আশঙ্কা, এই সীমারেখা স্পষ্ট না হলে ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যেও একই ধরনের সংঘাত তৈরি হতে পারে।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার শুনানিতে দুই পক্ষই নিজেদের যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। আপাতত তদন্তে ব্রেক লাগলেও, আইপ্যাক-কাণ্ডে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই যায়। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই শিবিরই।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা