আইএইএ-র পরিদর্শকদের প্রবেশে ‘না’ ইরানের!
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আবারও তীব্র হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দাবি করেছিলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র পরিদর্শকদের দেশের পরমাণু কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে তেহরান। কিন্তু সেই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ইরান সরকার।
মঙ্গলবার ইরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নতুন কোনও আলোচনা হয়নি। ফলে ভান্সের বক্তব্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সুইৎজ়ারল্যান্ডে যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী আলোচনার প্রথম দফার বৈঠকের পর ভান্স বলেছিলেন, আইএইএ-র সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, তেহরান পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ফের প্রবেশাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেয়। তারা জানায়, দেশের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কোনও নতুন প্রতিশ্রুতি ইরান দেয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কায়রোতে আইএইএ-র সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইরান। তখন রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের প্রশাসন সেই অনুমতি কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় গত বছর, যখন ইজ়রায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান এবং একাধিক পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। তার কিছু দিন আগে আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি অভিযোগ করেছিলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
এর পর আমেরিকাও ইরানের ফোরডো, নাতানজ় এবং ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সেই ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও মতভেদ রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন চাইছে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করুক, কিন্তু তেহরান সেই দাবি মানতে রাজি নয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে একাধিক সামরিক অভিযানের পর। পাল্টা হামলা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির হস্তক্ষেপের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতা গড়ে ওঠে। জুন মাসে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকেও সই করে দুই পক্ষ।
তবে আইএইএ-র পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট করে দিল, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এখনও আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে রয়েছে। আগামী দিনে এই প্রশ্নই আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?