আইআইএম জোকা কাণ্ড: মনোবিদ তরুণীর অভিযোগের মাঝে বাবার রহস্যজনক মন্তব্যে বাড়ল ধোঁয়াশা

আইআইএম জোকা কাণ্ড! আইআইএম ক্যালকাটার (জোকা) বয়েজ় হস্টেলে এক মনোবিদ তরুণীকে বেহুঁশ করে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র। তবে গোটা ঘটনায় নতুন মোড় এনেছেন অভিযোগকারী তরুণীর…

July 12, 2025
1 min read

আইআইএম জোকা কাণ্ড!

আইআইএম ক্যালকাটার (জোকা) বয়েজ় হস্টেলে এক মনোবিদ তরুণীকে বেহুঁশ করে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র। তবে গোটা ঘটনায় নতুন মোড় এনেছেন অভিযোগকারী তরুণীর বাবাই। তাঁর দাবি, মেয়ের উপর কোনও অত্যাচার হয়নি, এমনকি মেয়েটিও এ কথা ফোনে জানিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দুপুরে। ‘নির্যাতিতা’ তরুণী নিজেই হরিদেবপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। লিখিত বয়ানে তিনি জানান, দুপুর সাড়ে ১১টা নাগাদ কাউন্সেলিংয়ের কাজে আইআইএম জোকায় যান। অভিযুক্ত ছাত্র তাঁকে বয়েজ় হস্টেলে নিয়ে গিয়ে পিৎজা ও জল দেন। তরুণীর সন্দেহ, খাবারে কিছু মেশানো ছিল। খাওয়ার পরে তাঁর মাথা ঘুরতে শুরু করে। অভিযোগ, এরপর অভিযুক্ত তাঁকে শৌচাগারে যেতেও দেননি, বন্ধুরা দেখে ফেলতে পারে এই আশঙ্কায়। তরুণী জানান, কথাবার্তার মধ্যে হঠাৎই অভিযুক্ত তাঁর চুল টেনে ধরে, তিনি প্রতিরোধ করতে গেলে মাথা ঠুকে দেয়। তারপর সংজ্ঞা হারান তিনি। অর্ধচেতন অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হন বলে বয়ানে উল্লেখ করেন তরুণী।

এরপর জ্ঞান ফিরে তিনি হস্টেল ছেড়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান। একই সঙ্গে অভিযোগ, হস্টেলে ঢোকার সময় রেজিস্টারে তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেও দেননি অভিযুক্ত। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং শনিবার আলিপুর আদালতে তোলে। আদালত তাকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। অভিযুক্তের আইনজীবী অবশ্য সমস্ত অভিযোগ ‘আষাঢ়ে গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

গোটা ঘটনায় জটিলতা বাড়ে যখন সংবাদমাধ্যমের সামনে তরুণীর বাবা জানান, রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে তাঁর মেয়ে ফোন করে জানিয়েছিল, গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছে এবং জায়গাটা বুঝতে পারছে না। তাঁর দাবি, পুলিশের বয়ান নেওয়া হয়েছে জোর করে। তাঁর মেয়ের সঙ্গে অভিযুক্তের কোনও সম্পর্কও নেই বলে জানান তিনি। তবে কে বা কারা বয়ান লিখিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি।

অভিযুক্তের আইনজীবীর বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে তরুণী সেখানে গিয়েছিলেন। পেশায় মনোবিদ হওয়ায় কাউন্সেলিংয়ের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিযুক্তের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নাম প্রকাশ না করারও আবেদন জানানো হয় আদালতে।

সরকারি আইনজীবীর দাবি, অভিযুক্তের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে কোনও ভিডিও বা ছবি ছড়ানো হয়েছে কিনা। হস্টেল থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজও চলছে। অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি আইনজীবী। তদন্তকারী অফিসারের কথায়, “মেয়েটি বার বার বলেছে, সে সংজ্ঞাহীন ছিল। অভিযুক্তের ফোনে কী আছে, সেটাও দেখা হবে।”

এই অভিযোগ-প্রত্যঅভিযোগের মাঝে তরুণীর বাবার মন্তব্যে রহস্য যেন আরও ঘনীভূত হয়েছে। সত্যিই কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হবে তদন্তের পরই।

ক্রিকেটার চাহালের সঙ্গে নাম জড়ানো আরজে মাহবিশের নতুন চমক, কিনে নিলেন নিজস্ব ক্রিকেট দল!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *