আইআইএম জোকা কাণ্ড: তদন্তের মাঝেই বাড়ছে ধোঁয়াশা, প্রশ্ন তুলছেন পরিবারের সদস্যরাও

আইআইএম জোকা কাণ্ড! আইআইএম জোকার বয়েজ় হস্টেলে মনোবিদ তরুণীর উপর নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য এখনো কমেনি। অভিযুক্ত ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পুলিশের হেফাজতে থাকলেও, ঘটনার সত্যতা নিয়ে…

July 14, 2025
1 min read

আইআইএম জোকা কাণ্ড!

আইআইএম জোকার বয়েজ় হস্টেলে মনোবিদ তরুণীর উপর নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য এখনো কমেনি। অভিযুক্ত ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পুলিশের হেফাজতে থাকলেও, ঘটনার সত্যতা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারী তরুণীর পরিবারের কথাতেই নতুন করে রহস্য দানা বাঁধছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। অভিযোগকারী তরুণী নিজে থানায় গিয়ে জানান, কাউন্সেলিংয়ের কাজে তিনি আইআইএম জোকায় গিয়েছিলেন। সেখানে অভিযুক্ত ছাত্র তাঁকে হস্টেলের ভিতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে খাবার খাওয়ান। তরুণীর সন্দেহ, সেই খাবারে কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, খাওয়ার পরে তাঁর মাথা ঘুরতে থাকে এবং তিনি প্রায় সংজ্ঞা হারান। এরপর, অভিযোগ অনুসারে, অচেতন অবস্থায় তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চলে।

পুলিশও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করে। আদালত থেকে তাঁকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তরুণীর বাবার বক্তব্যে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, “রাত ন’টা বেজে ৩৪ মিনিটে মেয়ে আমাকে ফোন করে বলে, সে গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে এবং কোথায় রয়েছে বুঝতে পারছে না।” সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মেয়ের কাছ থেকে জোর করে লিখিত অভিযোগ করানো হয়েছে।

পরিবারের এই বক্তব্য সামনে আসতেই পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে প্রশ্ন জাগছে, তাহলে আসল ঘটনা কী? সত্যিই কি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, না কি এখানে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে?

আইআইএম জোকা কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও, ক্যাম্পাসের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ-নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, হস্টেলে ঢোকার সময় রেজিস্টারে নাম লেখানো বাধ্যতামূলক হলেও, ওই দিন অভিযোগকারিণীকে তা করতে দেওয়া হয়নি।

অভিযুক্তের আইনজীবী অবশ্য গোটা ঘটনাকে ‘আষাঢ়ে গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে আলাপের সূত্রে দু’জনের পরিচয় হয় এবং তরুণী নিজের ইচ্ছায় সেখানে গিয়েছিলেন। আইনজীবী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা সম্পর্কিত বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।

সরকারি আইনজীবী এ প্রসঙ্গে আদালতে বলেন, অভিযুক্তের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “তরুণী বারবার বলেছেন, তিনি অচেতন ছিলেন। তাই অভিযুক্তের ফোন এবং হস্টেলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে, সেখানে কোনও ভিডিও বা ছবি রয়েছে কি না।”

তদন্ত চলাকালীনই পরিবারের এমন উল্টো বক্তব্যে তদন্তকারী অফিসাররা কিছুটা ধন্দে পড়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ঘটনার মূল সত্য উদ্ঘাটনে আরও সময় লাগবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, পুরো বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটন করা হোক। আবার কেউ মনে করছেন, এমন সংবেদনশীল ঘটনায় কোনও পক্ষকে আগেভাগে দোষী বা নির্দোষ বলে রায় দেওয়া উচিত নয়।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইআইএম জোকা কাণ্ডে যে ধোঁয়াশা রয়ে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।

বিমানে জ্বালানির সুইচ ত্রুটি! এফএএ সতর্ক করেছিল সাত বছর আগে, গুরুত্ব দেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *