অস্ত্র হাতে দুই তরুণী!
ফের রক্তাক্ত পাকিস্তানের বালোচিস্তান। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে বালোচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে তীব্র গুলির লড়াইয়ে জড়াল পাক সেনা। রাওয়ালপিন্ডির দাবি, ১৪৫ জন বিদ্রোহী নিহত। পাল্টা বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বলছে, সেনা ও অফিসার মিলিয়ে ১৫০ জন পাক সৈনিককে খতম করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের মধ্যেই সামনে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য— এ বারকার হামলার নেতৃত্বে ছিলেন দুই তরুণী আত্মঘাতী হামলাকারী। প্রশ্ন উঠছে, কোন ক্ষোভ থেকে অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছেন বালোচ সমাজের মা-বোনেরা?
পাকিস্তানের গণমাধ্যম জানাচ্ছে, জানুয়ারির শেষ দিক থেকে বালোচিস্তানের বিভিন্ন সেনাঘাঁটি ও পুলিশ চৌকিতে একের পর এক হামলা চালিয়েছে বিএলএ। কোথাও গুলিবর্ষণ, কোথাও আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা। বালোচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ় বুকতির দাবি, এই সংঘর্ষে ১৭ জন সৈনিক ও ৩১ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা মানছেন অনেক বিশ্লেষকই।
কেন এত অশান্তি? উত্তর লুকিয়ে আছে বালোচিস্তানের ইতিহাস ও বাস্তবতায়। পাকিস্তানের চার প্রদেশের মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় এই অঞ্চলটি দেশটির প্রায় ৪৪ শতাংশ জায়গা জুড়ে। আরব সাগরের উপকূল, গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি, ইরান-আফগানিস্তান সীমান্ত— কৌশলগত গুরুত্ব বিপুল। তার উপর রয়েছে সোনা, ইউরেনিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো অঢেল খনিজ সম্পদ। কিন্তু এই সম্পদের সুফল পৌঁছোয় না স্থানীয় বালোচদের কাছে। আজও প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার হাল ভয়াবহ— লক্ষ লক্ষ শিশু স্কুলের বাইরে, মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের প্রায় তিন গুণ।
স্বাধীনতার পর থেকেই বালোচদের অভিযোগ, ইসলামাবাদ তাঁদের প্রদেশকে শুধু সম্পদ লুটের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছে। বারবার সেনা অভিযান, গুম, অপহরণের অভিযোগে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মুশারফ জমানা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কালে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্প— সব ক্ষেত্রেই স্থানীয়দের বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। গ্বদর বন্দরের উন্নয়নের বদলে মৎস্যজীবীরা কাজ হারিয়েছেন, প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান বাস্তবে হয়নি।
এই পটভূমিতেই সামনে এসেছে দুই তরুণী হামলাকারীর ছবি ও ভিডিয়ো। বিএলএ জানিয়েছে, ২৪ বছরের আসিফা মেঙ্গল ও আর এক তরুণী এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। হামলার আগে প্রকাশিত ভিডিয়োয় এক তরুণী বলেন, “ওরা আমাদের মা-বোনেদের দমিয়ে রাখতে শুধু গায়ের জোর দেখায়। আমাদের জাগতে হবে।” এই কথাগুলি বোঝাচ্ছে, বিদ্রোহ আর শুধু পুরুষদের হাতে সীমাবদ্ধ নেই— সামাজিক ক্ষোভ এখন গভীরে পৌঁছে গিয়েছে।
পাক সেনা অবশ্য বরাবরের মতোই ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। নয়াদিল্লি সেই দাবি নস্যাৎ করে জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই এই অভিযোগ। বাস্তবতা হল, বালোচিস্তানের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও কঠোর সামরিক দমননীতি মিলেই আজকের এই বিস্ফোরক পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্ন একটাই— শক্তি দিয়ে কি এই ক্ষোভ দমন করা যাবে, নাকি রাজনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ?
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা