‘অস্তিত্ব বাঁচাতে রাহুলের কাছে হাতজোড় করতেই হবে’! মমতার জোটবার্তায় তীব্র কটাক্ষ অধীরের

মমতার জোটবার্তায় তীব্র কটাক্ষ অধীরের! বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে এক মঞ্চে আনার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম, অতিবাম থেকে শুরু করে জাতীয় দল— সকলকে একসঙ্গে লড়াইয়ের…

May 11, 2026
1 min read

মমতার জোটবার্তায় তীব্র কটাক্ষ অধীরের!

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে এক মঞ্চে আনার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম, অতিবাম থেকে শুরু করে জাতীয় দল— সকলকে একসঙ্গে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই প্রস্তাব নিয়েই এ বার তীব্র কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক জমি হারিয়ে এখন কংগ্রেসের কাছেই সাহায্য চাইতে বাধ্য হচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে অধীর বলেন, “এখন দিদি বিপদে পড়েছেন। তাই সবাইকে ডাকছেন। রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আগামী দিনে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করা ছাড়া ওঁর আর কোনও উপায় থাকবে না।” তাঁর কথায়, ক্ষমতা হারানোর পরেই মমতার রাজনৈতিক অবস্থান বদলে গিয়েছে এবং এখন তিনি নতুন করে বিরোধী ঐক্যের কথা বলছেন।

সম্প্রতি মমতা জানিয়েছিলেন, বিজেপি তাঁদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাই যে কোনও অ-বিজেপি শক্তি চাইলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। এমনকি প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত তিনি আলোচনার জন্য সময় রাখবেন বলেও জানান। সেই মন্তব্যকেই ব্যঙ্গ করে অধীর বলেন, “দেখতে চাই, ওই সময়ে কারা ওঁর বাড়িতে যান। তা হলেই বোঝা যাবে, বাংলার মানুষ এখনও তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে মানছেন কি না।”

এখানেই থামেননি অধীর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি। অভিষেকের বাড়িকে কটাক্ষ করে অধীর বলেন, “শুনছি, খোকাবাবুর বাড়ি এখন দর্শনীয় স্থান হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হলে কত ক্ষমতা পাওয়া যায়, আর সেই ক্ষমতায় কী ভাবে প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি হয়, সেটা দেখতে নাকি মানুষ ভিড় করছেন।” তাঁর আরও সংযোজন, “খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজ়িয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব শীঘ্রই মিউজ়িয়াম হয়ে যাবে।”

ভোটের সময় থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন অধীর। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক নাকি কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছিল। এমনকি নাম-পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে অভিষেকের কথা বলানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

অন্য দিকে, মমতার জোটবার্তাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছে সিপিএমও। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রবীন্দ্রনাথের লাইন টেনে বলেন, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো…”। অর্থাৎ, বিরোধী শিবিরে তৃণমূলের এই নতুন আহ্বানকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ বাম ও কংগ্রেস— এমনই ইঙ্গিত মিলছে রাজনৈতিক মহলে।

তবে অধীরের এই আক্রমণের জবাবে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *