অভিষেক বচ্চনের হাতছাড়া সুযোগ!
বলিউডের ‘বিগ বি’ অমিতাভ বচ্চনের ছেলে অভিষেক বচ্চন। তাঁর কেরিয়ার নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সুযোগ পেলেও কখনও কখনও ভাগ্য সহায় হয়নি। অমিতাভ বচ্চন ও ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন যেখানে বলিউডের পাশাপাশি দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও নিজেদের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন, সেখানে অভিষেকের সেই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধরা রয়ে গেল।
একটি ফোন কলের অভাবেই বদলে গেল ইতিহাস!
২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় তামিল ছবি ‘৯৬’—যা রোমান্টিক ঘরানার এক অনন্য সৃষ্টি, এটি মুক্তির পর দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। ছবিটির পরিচালক সি. প্রেম কুমার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, ছবির প্রধান চরিত্রে প্রথমে তিনি অভিষেক বচ্চনকে কাস্ট করতে চেয়েছিলেন। এমনকি চিত্রনাট্য লেখার সময় তাঁর মাথায় ছিল অভিষেকের ছবিই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, পরিচালকের পক্ষে অভিষেকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সম্ভব হয়নি!
অভিষেকের জন্যই লেখা হয়েছিল ‘৯৬’-এর চিত্রনাট্য
পরিচালক প্রেম কুমার জানিয়েছেন, ‘৯৬’ ছবির কাহিনি মূলত হিন্দি দর্শকদের কথা ভেবেই লেখা হয়েছিল এবং তিনি চেয়েছিলেন এটি হিন্দি ভাষায় নির্মিত হোক। তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন অভিষেক বচ্চন। কিন্তু যোগাযোগের অভাবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
তিনি বলেন,
“আমি অভিষেককে নায়ক হিসেবে কল্পনা করেই গল্প লিখেছিলাম। কিন্তু ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করব কীভাবে, সেটাই বুঝতে পারিনি।”
বিকল্প পথ ও বিজয় সেতুপতির উত্থান
যেহেতু অভিষেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাই শেষমেশ ছবিটি তামিল ভাষায় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিজয় সেতুপতিকে প্রধান চরিত্রে নেওয়া হয়। ছবিটি মুক্তির পর বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং বিজয় সেতুপতির কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি হয়ে ওঠে।
এছাড়া ছবির সাফল্য দেখে পরবর্তীতে এটি কন্নড় (৯৯) এবং তেলুগু (জানু) ভাষায় রিমেক করা হয়। কিন্তু অভিষেক বচ্চন সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন যা হয়তো তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সফল ছবি হতে পারত।
‘৯৬’-এর বক্স অফিস সাফল্য
মাত্র ১৮ কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত ‘৯৬’ মুক্তির পর প্রায় ৫০ কোটি রুপির ব্যবসা করে ফেলে, যা দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিশাল এক সাফল্য। যদি অভিষেক ছবিটি করতেন, তাহলে হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারেও একটি বড় সফলতা যুক্ত হতো।
অভিষেকের জন্য হারানো সুযোগ!
যেখানে অভিষেকের স্ত্রী ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন ‘ইরুভার’ দিয়ে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন, সেখানে অভিষেক এই সুযোগ পাননি শুধুমাত্র এক ফোন কলের অভাবে! ভাগ্য যদি একটু সহায় হতো, তাহলে হয়তো তিনিও দক্ষিণী ছবির জগতে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারতেন।
সবই ভাগ্যের খেলা?
সিনেমা জগতে সুযোগ একবার এলে তা হাতছাড়া না করাই শ্রেয়। কিন্তু অভিষেকের ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যবশত, পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবে একটি সাফল্যমণ্ডিত ছবির অংশ হতে পারলেন না তিনি। এই ছোট্ট ভুলই হয়তো তাঁর কেরিয়ারের গতিপথ বদলে দিতে পারত!
শেষ কথা
জীবনে সুযোগ আসে, কিন্তু সবসময় তা ধরা পড়ে না। অভিষেক বচ্চনের ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছে। দক্ষিণী ছবিতে জায়গা করে নেওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, তা হারিয়ে গেল শুধুমাত্র এক ভুলের কারণে! এখন প্রশ্ন থেকে যায়—এই ধরনের সুযোগ আবার তাঁর কাছে আসবে কি? সময়ই তার উত্তর দেবে।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে