কাজে মন ফেরাতে নিয়মিত গোমুখাসন
আজকের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ আর ক্লান্তি প্রায় সবার সঙ্গী হয়ে উঠেছে। অফিসের চাপ হোক বা ব্যক্তিগত সমস্যার বোঝা— মানসিক অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে শরীরেও। মাথাব্যথা, অস্বাভাবিক হৃদ্স্পন্দন, অবসাদ, অতিরিক্ত ক্লান্তি— এ সবই মানসিক চাপের লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে কেবল শরীরকে রোগা রাখা নয়, মনের সুস্থতাও সমান জরুরি। আর সেই কাজেই সাহায্য করতে পারে যোগাসন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শরীর ও মন দু’টিকেই সতেজ রাখার এক কার্যকর উপায় হল গোমুখাসন।
কীভাবে করবেন গোমুখাসন?
গোমুখাসন দেখতে জটিল মনে হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস করলে সহজ হয়ে যাবে। নিয়ম মেনে করলে উপকারও মিলবে দ্রুত।
১. প্রথমে যোগম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। হাত থাকুক হাঁটুর উপর।
২. চোখ বন্ধ করে ঘাড়, পিঠ আর মাথা এক সরল রেখায় রাখুন। এটাই আসনের প্রাথমিক ভঙ্গি।
৩. এ বার বাম হাত কোমরের নিচ দিয়ে পিঠের দিকে তুলুন।
৪. ডান হাত ঘাড়ের পেছন থেকে নামিয়ে আনুন এবং বাম হাতের আঙুল ধরার চেষ্টা করুন।
৫. প্রথম দিকে হয়তো আঙুলে আঙুল মিলবে না। সে ক্ষেত্রে একটি তোয়ালে বা রুমাল ব্যবহার করে দুই হাত কাছাকাছি আনতে হবে।
৬. এই অবস্থায় ঘাড়, পিঠ ও মাথা সোজা থাকবে। মনে মনে ২০ পর্যন্ত গুনুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।
৭. এবার হাত বদল করে একইভাবে অনুশীলন করুন। শেষে শুরুর ভঙ্গিতে ফিরে আসুন।
গোমুখাসনের উপকারিতা
- মানসিক চাপ কমায়: প্রতিদিন এই আসন চর্চা করলে মনের ভার লাঘব হয়, মন স্থির হয়।
- ক্লান্তি দূর করে: সারা দিনের কাজের পর শরীর-মনকে নতুন করে চাঙ্গা করে তুলতে পারে এই আসন।
- শরীরকে নমনীয় রাখে: বিশেষ করে ঘাড়, পিঠ ও মেরুদণ্ডের পেশি নমনীয় হয়।
- ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়: ঘাড়, কোমর, সায়াটিকা বা আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথা কমাতে সহায়ক।
- সামগ্রিক সুস্থতা আনে: শরীর-মন দুইয়েরই ভারসাম্য বজায় থাকে।
সতর্কতা
- অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই আসন করবেন না।
- যাঁদের হার্নিয়ার অপারেশন হয়েছে, তাঁদেরও এই আসন এড়ানো উচিত।
গোমুখাসন নিয়মিত করলে দেখা যাবে, কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ছে, অবসাদ অনেকটাই কমছে। শরীরের সঙ্গে মনও তরতাজা থাকবে। আধুনিক জীবনের চাপের ভিড়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে যোগাসনের এই সহজ পদ্ধতিই হতে পারে আপনার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ