চিনের ‘হঙ্গর’ ডুবোজাহাজ পাচ্ছে পাকিস্তান!
পাকিস্তান নৌসেনা আগামী বছরেই চিনের কাছ থেকে ‘হঙ্গর’ শ্রেণির অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ পেতে চলেছে। এক দশক আগে বেজিঙের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ইসলামাবাদের, এবং এখন সেই চুক্তির প্রথম দফা বাস্তবায়নের সময় এসে গিয়েছে। পাক নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল নভীদ আশরাফ সম্প্রতি চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম Global Times–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
🔹 পাকিস্তান-চিন প্রতিরক্ষা চুক্তি: মূল দিকগুলো
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| চুক্তির বছর | ২০১৫ |
| ডুবোজাহাজের সংখ্যা | ৮টি ‘হঙ্গর’ ক্লাস সাবমেরিন |
| প্রথম ডেলিভারি সময় | ২০২৬ (প্রত্যাশিত) |
| নির্মাণ স্থান | ৪টি চিনে, ৪টি পাকিস্তানে |
| সম্ভাব্য সম্পূর্ণ ডেলিভারি | ২০২২–২০২৮ |
এই চুক্তি শুধু সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
🔹 কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘হঙ্গর’ ডুবোজাহাজ
‘হঙ্গর’ বা Hangor-class submarine হল এক ধরণের উন্নত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন, যা গভীর সমুদ্রে দীর্ঘক্ষণ গোপনে অবস্থান করতে সক্ষম। এটি anti-ship missiles এবং torpedo হামলায় কার্যকরী। পাকিস্তান নৌসেনার মতে, এই সাবমেরিন যুক্ত হলে ভারত মহাসাগরে তাদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
🔹 চিনের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা
‘স্টকহলম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (SIPRI)–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির ৮১% এসেছে চিন থেকে। যুদ্ধবিমান, রণতরী, ড্রোন কিংবা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই ইসলামাবাদ এখন বেজিঙের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
চলতি বছর ভারত-পাক সংঘর্ষের সময়ও দেখা গিয়েছিল চিনা প্রযুক্তির উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা—বিশেষ করে JF-17 Thunder, J-10C Vigorous Dragon যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ব্যবহারে।
🔹 ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান নৌসেনায় নতুন সাবমেরিন যুক্ত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীকেও সমুদ্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে হবে। ইতিমধ্যেই ভারত INS Arihant–এর মতো পারমাণবিক সাবমেরিন ও Scorpene-class সাবমেরিন দিয়ে সাবমেরিন ফ্লিটকে আধুনিকীকরণে মন দিয়েছে।
🔗 আরও পড়ুন: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে নতুন প্রযুক্তি সংযোজন নিয়ে প্রতিবেদন
🔗 সম্পর্কিত সংবাদ: চীনের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা নিয়ে বিশ্লেষণ – Bangla TechnoSports
🔹 উপসংহার
পাকিস্তান-চিন সামরিক সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায়। আগামী বছরেই যদি ‘হঙ্গর’ সাবমেরিন পাকিস্তান নৌসেনায় যুক্ত হয়, তাহলে তা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত মহাসাগরে এখন আরও সক্রিয় হবে বেজিঙ-ইসলামাবাদ জোট।