রানওয়ে পেরিয়ে নদীর ধারে গিয়ে থামল নেপালের যাত্রীবিমান!
নেপালে ফের এক বার বিমান দুর্ঘটনার আতঙ্ক। শুক্রবার অবতরণের ঠিক আগে রানওয়ে থেকে ছিটকে গেল একটি যাত্রীবাহী বিমান। অল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। ঘটনায় বিমানে থাকা ৫৫ জন যাত্রী ও কর্মী সকলেই অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থা।
নেপালের ঘরোয়া বিমান সংস্থা Buddha Air-এর একটি ছোট আকারের বিমান সেদিন সকালে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ভদ্রপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়েই বিমানটি ভদ্রপুর বিমানবন্দরে পৌঁছয়। কিন্তু অবতরণের সময় আচমকা পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রানওয়ে ছোঁয়ার ঠিক মুহূর্তে বিমানটি প্রবল ঝাঁকুনি খায়। তার পরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে পেরিয়ে ছিটকে যায় প্রায় ২০০ মিটার দূরে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, রানওয়ের পাশেই রয়েছে একটি নদী। বিমানটি শেষ পর্যন্ত নদীর একেবারে ধারে গিয়ে থামে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে ভাগ্যক্রমে বিমানটি নদীতে পড়েনি।
বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ৯এন-এএমএফ নম্বরের ওই বিমানে মোট ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া পাইলট ও কেবিন ক্রু মিলিয়ে চার জন কর্মী ছিলেন। সকলেই নিরাপদে আছেন এবং কারও গুরুতর আঘাত লাগেনি। যদিও ধাক্কার ফলে বিমানের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত তৎপর হয় প্রশাসন। কাঠমান্ডু থেকে উদ্ধারকারী দল এবং প্রযুক্তিবিদদের একটি বিশেষ দল ভদ্রপুরে পাঠানো হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। আতঙ্কিত হলেও পরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন যাত্রীরা। অনেকেই জানিয়েছেন, ঝাঁকুনির মুহূর্তে মনে হয়েছিল বড় কিছু ঘটে যেতে চলেছে।
কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিমান সংস্থা জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কুয়াশা বা আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা রানওয়ের অবস্থাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এই ঘটনার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে নেপালের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, দ্রুত বদলে যাওয়া আবহাওয়া এবং তুলনামূলক ছোট রানওয়ে— সব মিলিয়ে নেপালে বিমান চলাচল বরাবরই চ্যালেঞ্জের। এর আগেও একাধিক ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখেছে দেশটি।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে শৌর্য এয়ারলাইন্সের একটি বিমান কাঠমান্ডু থেকে ওড়ার পর ভেঙে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগের বছর, ২০২৩ সালে ইয়েতি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান পোখরায় অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে। সেই মর্মান্তিক ঘটনায় যাত্রী ও বিমানকর্মী মিলিয়ে ৭২ জনের প্রাণ যায়।
এই প্রেক্ষাপটে ভদ্রপুরের ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল নেপালের উড়ান নিরাপত্তা নিয়ে। যদিও এ বার প্রাণহানি না হওয়ায় স্বস্তি রয়েছে, তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় আরও জোর দেওয়া জরুরি।