অপা ‘একাই ১০০’! কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্তে ইডি’র চার্জশিটে সম্পত্তির হিসাব

অপা ‘একাই ১০০’! প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে ইডি কোটি কোটি টাকার হিসাব প্রকাশ করেছে। তদন্তে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা, ট্রাস্ট এবং ফার্ম মিলিয়ে মোট অভিযুক্ত ৫৪। গ্রেফতার হওয়া ছ’জনের…

December 25, 2024
1 min read

অপা ‘একাই ১০০’!

প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে ইডি কোটি কোটি টাকার হিসাব প্রকাশ করেছে। তদন্তে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা, ট্রাস্ট এবং ফার্ম মিলিয়ে মোট অভিযুক্ত ৫৪। গ্রেফতার হওয়া ছ’জনের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। ইডি তাদের চার্জশিটে দাবি করেছে, দুর্নীতির পরিমাণ ১৫১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা।

পার্থ-অর্পিতার দুর্নীতি:

তদন্তে উঠে এসেছে, এই নিয়োগ দুর্নীতির সবচেয়ে বড় অংশীদার পার্থ ও অর্পিতা। ইডি জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে ১০৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ৪৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা এবং ৫ কোটি ৮ লাখ টাকার সোনার গয়না।

২০২২ সালের জুলাই মাসে ইডি প্রথম পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতার বাড়িতে অভিযান চালায়। অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় নগদ ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। পরে বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকেও নগদ ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়।

মানিক ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য অভিযুক্ত:

এই মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে ইডি। এছাড়াও, এজেন্ট কুন্তল ঘোষ, অয়ন শীল এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় মিলিয়ে দুর্নীতির পরিমাণ ১৫ কোটি ৩ লক্ষ টাকা।

সংস্থা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত:

ইডির দাবি, ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামক একটি সংস্থা এবং ‘ইম্প্রোলাইন কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে আরেকটি সংস্থা এই দুর্নীতিতে জড়িত। ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অধীনে থাকা ৭ কোটি ৪৬ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

‘ইম্প্রোলাইন কনস্ট্রাকশন’ সংস্থার মাধ্যমে ১৩ কোটি ৫৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা নয়ছয় হয়েছে। ইডি তাদের পঞ্চম অতিরিক্ত চার্জশিটে জানিয়েছে, এই দুই সংস্থার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া চলছে।

তদন্তের ধারা:

ইডি এই মামলায় একাধিক চার্জশিট জমা দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় চার্জশিটে পার্থ ও অর্পিতার নাম ছিল। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় চার্জশিটে এজেন্ট কুন্তল ঘোষের নাম আসে।

চতুর্থ চার্জশিটে ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও দুই ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে, যাঁরা টাকা নয়ছয় করার মাধ্যমে দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন।

এজেন্ট ও দুর্নীতির পদ্ধতি:

তদন্তে উঠে এসেছে, চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন এজেন্ট কাজ করত। ইডির দাবি, এই এজেন্টরা ভুয়ো ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করত। পরে সেই টাকা হাত ঘুরে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছত।

পরবর্তী কার্যক্রম:

ইডি জানিয়েছে, এই দুর্নীতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। অভিযুক্তদের সম্পত্তির পরিমাণ যাচাই এবং বাজেয়াপ্ত করার কাজ চলছে। নিম্ন আদালতে মামলার চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতির এই মামলায় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে দেশের বিচারব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *