অপারেশন সিঁদুর: কেন এই নাম পেল ভারতের পাকিস্তান প্রত্যাঘাত অভিযান?

অপারেশন সিঁদুর! ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় এক নৃশংস জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। ওই হামলায় পর্যটকদের নিশানা করেছিল জঙ্গিরা—বিশেষ করে হিন্দু পুরুষদের। ধর্মপরিচয় যাচাই করে গুলি করা…

May 7, 2025
1 min read

অপারেশন সিঁদুর!

২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় এক নৃশংস জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। ওই হামলায় পর্যটকদের নিশানা করেছিল জঙ্গিরা—বিশেষ করে হিন্দু পুরুষদের। ধর্মপরিচয় যাচাই করে গুলি করা হয় তাঁদের। যাঁরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন, তাঁদের স্ত্রীর সামনেই খুন করা হয়। অনেকেই সদ্য বিবাহিত ছিলেন। সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে। নাম দেওয়া হয়—‘অপারেশন সিঁদুর’।

এই নামকরণে সায় দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই নাম বেছে নেওয়া হয়। ‘সিঁদুর’ নামটি নিছক প্রতীক নয়; এটি এক গভীর বার্তা বহন করে।

হিন্দু সংস্কৃতিতে ‘সিঁদুর’ বিবাহিত মহিলাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচায়ক। কপালে সিঁদুর পরে তাঁরা তাঁদের বিবাহিত জীবনকে জানান দেন। কিন্তু পহেলগাঁওয়ে সেই চিহ্ন কার্যত মুছে দেওয়ার চেষ্টা চালায় জঙ্গিরা। নিহতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সদ্যবিবাহিত। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ছবি আরও মন কাঁদায় দেশবাসীর—হরিয়ানার নৌসেনা আধিকারিক বিনয় নওয়ালের স্ত্রী হিমাংশী নরওয়াল, যিনি উপত্যকার মাঝে স্বামীর নিথর দেহ আঁকড়ে বসে আছেন। সদ্য বিবাহের পরে মধুচন্দ্রিমা কাটাতে গিয়ে ঘটে সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা। এই ছবি হয়ে ওঠে ভারতের প্রতিক্রিয়ার প্রতীক।

এই আবেগঘন প্রেক্ষাপটেই আসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামটি। একদিকে এটি জঙ্গি হানায় বিধবা হওয়া নারীদের প্রতীক, অন্যদিকে তা পাকিস্তানকে দেওয়া একটি কড়া বার্তা—ভারত পরিবার ও নারীদের সম্মানের প্রশ্নে কোনও আপস করবে না।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতীয় সেনা পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, এই ঘাঁটি গুলি থেকেই ভারতে হামলার ছক তৈরি হত। পাকিস্তান ইতিমধ্যে আট জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। সীমান্তে এখনও গোলাগুলি চলছে বলে জানা গিয়েছে।

পাকিস্তান যদিও পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলেছে। তবে ভারত কোনও অপেক্ষায় না থেকে সরাসরি প্রত্যাঘাতের পথ বেছে নেয়। আমেরিকা, চিন, রাশিয়ার মতো দেশগুলি দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু মোদী সরকার সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছিল, যার ফলেই এই হামলা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু একটি সামরিক অভিযানের নাম নয়, বরং তা একটি প্রতীক—যা স্মরণ করায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান এবং নিরীহ নাগরিক, বিশেষত নারীদের প্রতি দায়বদ্ধতা।

“এভাবে তো পাকিস্তানের সঙ্গেই করি!”—যমুনা-সিন্ধুর জল নিয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানার তীব্র দ্বন্দ্বে বিস্মিত হাই কোর্ট

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *