কাশ্মীরের কিস্তওয়ারে জঙ্গিদের ধাঁধায় ঘিরে জওয়ানদের সাহসী লড়াই!
কাশ্মীরের কিস্তওয়ারে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলছে তীব্র অভিযান। ১ আগস্ট থেকে কুলগাঁও জেলার অখল জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনী শুরু করেছে ‘অপারেশন অখল’। এই অভিযানে জঙ্গিদের ধরতে সেনাবাহিনী নেমেছে মাঠে, কিন্তু সেই যুদ্ধে হারিয়েছেন দু’জন বীর জওয়ান।
অভিযান ও গুলির লড়াইয়ের শুরু
রবিবার সকালে বিশেষ গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী কিস্তওয়ারের ডাল এলাকায় অভিযান চালায়। সেই সময় জঙ্গিরা হঠাৎ সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। জওয়ানরাও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। এই লড়াইয়ের মধ্যে জওয়ান ল্যান্স নায়েক প্রীতপাল সিংহ এবং সেপয় হরমিন্দর সিংহ শহীদ হন। তাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ সবাইকে করুণ করে তোলে।
অভিযানের অগ্রগতি
অপারেশন ‘অখল’ শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই তিন জঙ্গিকে নির্মূল করে নিরাপত্তাবাহিনী। এরপরও গত আট দিনে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী বেশ কয়েক জন সন্ত্রাসবাদী শেষ করেছে। এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত দশ জন জওয়ান আহত হয়েছেন।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, অখল জঙ্গলের গভীরে জঙ্গিরা ঘাঁটি গেঁথেছে। সেখানে অনেক গুহা ও গাঢ় অরণ্য রয়েছে, যেখানে তারা লুকিয়ে আছে। এই কঠিন পরিবেশে জঙ্গিদের অবস্থান নির্ণয়ে সেনাবাহিনী ব্যবহার করছে আধুনিক প্রযুক্তি—ড্রোন ও হেলিকপ্টার।
পেছনের গল্প: পহেলগাঁও হামলার পরের প্রতিবাদ
কাশ্মীরের ইতিহাসে পহেলগাঁওয়ের ২২ এপ্রিলের ঘটনা স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল ২৬ নিরাপত্তাকর্মী। এরপর ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী ‘অপারেশন মহাদেব’ নামে একটি অভিযানে হামলায় জড়িত তিন জঙ্গিকে হত্যা করে। পহেলগাঁওয়ে সেই ঘটনা আজও মনেও ভেসে ওঠে। এর কিছুদিন পর আবারো সেখানে নতুন অভিযান শুরু হয়।
সেনাদের বীরত্ব ও চ্যালেঞ্জ
এই কঠোর পরিস্থিতিতে, কাশ্মীরের দুর্গম অরণ্যে নিরাপত্তাকর্মীরা নিরলস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি পদক্ষেপে ঝুঁকি, প্রতিটি গুলিতে সম্ভাব্য মৃত্যু। তবু দেশের জন্য সেই সাহস তারা ছাড়েননি। আজকের এই শিকলে আমাদের দেশের সুরক্ষার পেছনে রয়েছে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ।
প্রত্যাশা ও দোয়া
আজও, অপারেশন ‘অখল’ চলমান। সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনী প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যাতে কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যায়। সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে, এমনটা নিশ্চিত করার জন্য তারা যুদ্ধ করছেন। আমরা সবাই প্রার্থনা করি, যেন এই যুদ্ধে আমাদের জওয়ানরা সুস্থ থাকেন, নিরাপদে বাড়ি ফিরেন।
কাশ্মীরের এই সংকটপূর্ণ পরিসরে জঙ্গিদের ধরার জন্য যে সাহসিকতা, যা দেখাচ্ছেন আমাদের জওয়ানরা, তা কেবল দেশের জন্য নয়, আমাদের সবাইয়ের জন্য গর্বের। তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও সমর্থন থাকবে চিরকাল।
ঘন ঘন প্রস্রাব নয়, আরও অনেক উপসর্গ জানান দিতে পারে ডায়াবিটিস! কী ভাবে বুঝবেন?