অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল কেন? ‘যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই সরকারি টাকা পৌঁছবে’, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল কেন? অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় এনেছে রাজ্য সরকার। বুধবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত…

July 1, 2026
1 min read

অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল কেন?

অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় এনেছে রাজ্য সরকার। বুধবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি যোগ্য আবেদনকারীদের কাছেও ধাপে ধাপে এই অর্থ পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মোট প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু যাচাইয়ের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। তাঁর দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত ও বৈধ উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছনো উচিত।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থ কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, জনগণের অর্থ। তাই নিয়মের বাইরে কাউকে সুবিধা দেওয়া হবে না। এই নীতির ভিত্তিতেই আবেদনপত্রগুলি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরোধীদের অন্যতম প্রশ্ন ছিল, আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হলেও নতুন সরকার মাত্র এক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দে কীভাবে মাসিক ভাতা ৩,০০০ টাকায় উন্নীত করল। সেই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উপভোক্তাদের তালিকা পুনর্বিবেচনার ফলেই প্রকল্পের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি উপভোক্তার তালিকা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে বহু অনিয়ম ছিল। সরকারের সমীক্ষায় প্রায় ২৭ লক্ষ এমন নাম ধরা পড়েছে, যাঁদের মধ্যে কেউ ভারতীয় নন, কারও নাম ভোটার তালিকায় নেই, কেউ মারা গিয়েছেন, আবার কারও নাম একাধিক জায়গায় থাকায় একাধিক অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা পৌঁছচ্ছিল। এমনকি প্রায় ১০ লক্ষ পুরুষও ওই তালিকায় ছিলেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মহিলাদের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের অর্থ কোনওভাবেই পুরুষদের অ্যাকাউন্টে যাওয়া উচিত নয়।

অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়েও যে সমালোচনা হয়েছিল, সে প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, বাস্তবে আবেদনকারীদের মাত্র চারটি পাতা পূরণ করতে হয়েছিল। সংগৃহীত তথ্য ইতিমধ্যেই সরকারি পোর্টালে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেন্দ্র বা রাজ্যের অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে আবেদনকারীদের নতুন করে একই তথ্য জমা দিতে হবে না।

সম্প্রতি আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে আরও ৮ লক্ষ ১৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, যোগ্য বলে বিবেচিত প্রত্যেক আবেদনকারীই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন।

উপভোক্তাদের সামাজিক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন প্রায় ২৬.৬৩ লক্ষ তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলা, প্রায় ৫ লক্ষ আদিবাসী মহিলা এবং ১.২২ লক্ষের বেশি পাহাড়ি নেপালি-গোর্খা উপভোক্তা। পাশাপাশি, বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের সুবিধা চালু থাকবে বলে তিনি জানান।

শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, সরকারের লক্ষ্য কাউকে বঞ্চিত করা নয়, বরং প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা। তাঁর কথায়, সরকারি প্রকল্পের অর্থ শুধুমাত্র বৈধ ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *