ঘানায় মোদীর সফর, চীনের ‘ঋণ-জাল’ ডিপ্লোমেসিকে চ্যালেঞ্জ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘানায় প্রতিক্রিয়াশীল সফরকে কূটনৈতিক মহলে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে—হতে পারে চীনের ডেবট ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি মোকাবিলায় এক গুরুত্বপূর্ণ চাল। দ্য গ্লোবাল টাইমসের মত বিশ্লেষকরা বলছেন, আফ্রিকায় চীনের ঋণের মায়াজাল থেকে দেশগুলোকে বের করে আনতে ভারত সচেষ্ট। ঘানার সঙ্গে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে সম্পর্ক আরও সক্রিয় করার জন্য নয়াদিল্লি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্যাচুর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে ।
🇬🇭 ঘানা সফরের চিত্রপট
- মোদী ঘানার রাজধানী আক্ক্রায় ঘুরে দেখলেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান-বাজনা, ওষুধ ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আলোচনা করলেন ।
- ২০১৪ সালে ভারতীয় অর্থায়নে গঠিত রেল প্রকল্প উদ্বোধন ও ঘানা-ভারত পার্লামেন্টের বন্ধু সংসদ গঠন তার সূচনামাত্রেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্র শক্তিশালী করছে ।
⚔️ চীন বনাম ভারত: আফ্রিকায় বড় লড়াই
- চীন আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর ঋণে একাধিপত্য গড়েছে—যেখানে উদার ঋণ দেয়, পরিশোধে দেরি বা নীতিগত শর্তে জড়িয়ে রাখে দেশগুলিকে।
- ভারতের মনোভাব একটু ভিন্ন; এখানে মূল পরামর্শ হল, বাণিজ্য নির্ভর, নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী হওয়ার প্রতি উৎসাহ। স.জয়শঙ্কর এমন একটি তুলনামূলক বিরক্তি প্রকাশ করেছেন—চীনের ঋণ-শর্ত ও নীতির বিরুদ্ধে ভারত ‘মানুষ-কেন্দ্রিক’ উন্নয়নে বিশ্বাস করে ।
🛠️ ঘানায় ভারতের টেকনিক
- বন্ধুত্বপূর্ণ অনুদান-তহবিল: ঘানার ‘জুবিলি হাউস’ তথা রাষ্ট্রপতি প্রাসাদ ৩ মিলিয়ন ডলার অনুদানে নির্মাণ—সরাসরি উপহার হিসেবে।
- বাণিজ্য বিস্তার: ঘানার সঙ্গে ২০২৪–২০২৫ এ বাণিজ্য ৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ হওয়া। ভারতীয় ওষুধ, কৃষি সঁজাম, গাড়ি ইত্যাদি বড় বাজার পেয়েছে
- সুরক্ষা ও খনিকে অংশীদারিত্ব: প্রতিরক্ষা ও খনি সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে কৌশলগত ভূমিকাও ঘানার সঙ্গে গড়ে তোলা হচ্ছে
🌍 বিশ্ব কূটনীতির সুর
- মোদীর সফর বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ভূমিকা জোরদার করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়নকে G20’র অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি পেতে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—এবং তা ঘানার সংলাপেও উঠে এসেছে ।
- এই সফর ইঙ্গিত দেয়—চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ট অবস্থানের বিরুদ্ধে ভারত নয়া শক্তির সন্ধানে, আফ্রিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র জোরালো করছে।