পুজোর অনিয়মে বাড়ছে ফাস্টিং সুগার?
দুর্গাপুজোর দিনে লুচি, বিরিয়ানি, মিষ্টি— খাওয়াদাওয়ার তালিকায় থাকে নানা মুখরোচক পদ। কিন্তু এই অনিয়মের প্রভাব পড়তে পারে রক্তে শর্করার মাত্রায়, বিশেষত যাঁদের ডায়াবিটিস রয়েছে। তাই ফাস্টিং সুগার নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে শুধু ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে খাবার, শরীরচর্চা এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা— সব দিকেই নজর রাখা জরুরি।
কী ভাবে তৈরি করবেন মেথির পানীয়?
প্রচলিত একটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে মেথি, দারচিনি ও আমলকি ব্যবহারের কথা বলা হয়। এর জন্য এক চা-চামচ মেথি ২৫০ মিলিলিটার জলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে পারেন। সকালে জলটি ছেঁকে তাতে এক-চতুর্থাংশ চা-চামচ দারচিনির গুঁড়ো মেশানো হয়। মূল প্রতিবেদনে প্রাতরাশের আগে এই পানীয় খাওয়ার পাশাপাশি আমলকি বা আমলকির রস নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই পানীয় খেলে ২১ দিনের মধ্যে ফাস্টিং সুগার নিয়ন্ত্রণে আসবে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। মেথি নিয়ে কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করা কমানোর সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু তার ফল সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। দারচিনি ও আমলকির ক্ষেত্রেও আরও ভালো মানের গবেষণা প্রয়োজন।
মেথি, দারচিনি ও আমলকির সম্ভাব্য ভূমিকা
মেথিতে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা হজমের গতি এবং খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ় বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। দারচিনি নিয়ে কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠলেও ফলাফল এখনও একমত নয়। আমলকিতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা সামগ্রিক পুষ্টির জন্য উপকারী।
কিন্তু কোনও উপাদানের সম্ভাব্য উপকার মানেই তা ডায়াবিটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়। বিশেষ করে ফাস্টিং সুগার বেশি থাকলে তার কারণ খুঁজে দেখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সুগার নিয়ন্ত্রণে কী কী সতর্কতা জরুরি?
- চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।
- নির্ধারিত ওষুধ বা ইনসুলিন নিজে থেকে বন্ধ করবেন না কিংবা ডোজ় বদলাবেন না।
- মিষ্টি, মিষ্টি পানীয় ও অতিরিক্ত পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
- নিয়মিত হাঁটাচলা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন।
- নতুন কোনও ঘরোয়া উপাদান নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে বলে কিছু প্রমাণ থাকায়, ডায়াবিটিসের ওষুধের সঙ্গে এটি নিলে কারও কারও সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় মেথির ঔষধি মাত্রা এড়িয়ে চলা উচিত। রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে বা অন্য কোনও নিয়মিত ওষুধ চললে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন পানীয় খাওয়া ঠিক নয়।
মনে রাখবেন: ফাস্টিং সুগার বারবার বেশি এলে ঘরোয়া পানীয়ের উপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।