পঞ্জিকার পাতায় সেকাল-একাল!
বাঙালির ঘরে ঘরে এক সময় পঞ্জিকা ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় সঙ্গী। পুজোর দিনক্ষণ থেকে শুরু করে তিথি-নক্ষত্র, ব্রত-পার্বণ— নানা প্রয়োজনে পঞ্জিকার পাতায় চোখ রাখতেন মানুষ। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যবহার, এসেছে নতুন প্রযুক্তিও। এ বার পঞ্জিকার সেই জন্ম, বিবর্তন এবং আধুনিক সময়েও তার প্রাসঙ্গিকতাকে কেন্দ্র করেই সেজে উঠেছে নাকতলা উদয়ন সংঘের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। পুজোর ৪০তম বছরে তাদের ভাবনা, ‘কালধ্বনি’।
কলকাতার পরিচিত দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম নাকতলা উদয়ন সংঘ। প্রতি বছরই মণ্ডপসজ্জায় নতুন ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করেন উদ্যোক্তারা। এ বারও সেই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা অঞ্জন দাস জানান, শিল্পী বদলালেও তাঁদের পুজোর নিজস্ব ধারা বজায় থাকে। এ বারের থিমের নেপথ্যে রয়েছেন শিল্পী অনির্বাণ দাস। মণ্ডপে আলো ও আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত দীনেশ পোদ্দার।
পঞ্জিকার পাতায় সময়ের গল্প
বাংলা পঞ্জিকা বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, সংস্কার এবং উৎসবের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে। সেই সাংস্কৃতিক যোগসূত্রকেই শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপের প্রবেশপথে রয়েছে বাংলার ১২ মাসের চক্র। ভিতরে ঢুকলে চোখে পড়বে পঞ্জিকার নানা দিক, তার পুরনো রূপ এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়ার কাহিনি।
পুজোর আর এক উদ্যোক্তা সন্দীপ দাশগুপ্ত জানান, সেকাল থেকে একাল পর্যন্ত পঞ্জিকার সফরকে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর কথায়, পঞ্জিকা প্রায় প্রত্যেক বাঙালির ঘরেই কোনও না কোনও কাজে লাগে। তাই এর ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে তার ভূমিকা— সব কিছুই শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পুরনো পঞ্জিকার পাতা, ছাপার অক্ষর, ছবি, বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন মুদ্রণশৈলীকে কাজে লাগিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে অতীতের সময়কে। পঞ্জিকার জন্ম ও বিবর্তনের পাশাপাশি বদলে যাওয়া সমাজে তার গুরুত্বও উঠে এসেছে এই সজ্জায়। ফলে মণ্ডপ ঘুরে দেখা শুধু প্রতিমা দর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাঙালির সময়চর্চা ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও মিলবে।
দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন
‘কালধ্বনি’ থিমকে আরও জীবন্ত করে তুলতে মণ্ডপের ভিতরে রাখা হয়েছে পঞ্জিকা-সম্পর্কিত লাইভ পারফরম্যান্সের ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা পঞ্জিকার ইতিহাস ও বিবর্তনকে অন্য ভাবে অনুভব করতে পারবেন বলে আশা উদ্যোক্তাদের।
নাকতলা উদয়ন সংঘের ৪০তম বর্ষের এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ তাই কেবল মণ্ডপের নান্দনিকতা নয়, সময়ের সঙ্গে বাঙালির জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যের পরিবর্তনকে ফিরে দেখা। পুরনো পঞ্জিকার স্মৃতি আর আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপট মিলিয়ে ‘কালধ্বনি’ হয়ে উঠেছে সেকাল-একালকে এক সূত্রে বাঁধার প্রয়াস।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।