নবরাত্রির ব্রত রাখেন ডায়াবিটিস রোগীরা?
নবরাত্রির ন’দিন উপোস, নিরামিষ খাবার এবং নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ব্রত পালন করেন অনেকে। তবে ডায়াবিটিস থাকলে এই সময়ে খাওয়াদাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, খাবারের ধরন বদলে ফেলা কিংবা নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়ার সঙ্গে খাবারের সামঞ্জস্য না থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক ভাবে ওঠানামা করতে পারে।
তাই উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই শরীরের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। পুষ্টিবিদ জ্যোতি খানিজোহের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্রতের খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রোটিন, ফাইবার ও শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন খাবার খাবেন, কোনগুলি এড়াবেন?
নবরাত্রির উপোসে আলু, সাবুদানা, কুট্টুর আটা, শিঙাড়া বা পানিফলের আটার মতো খাবার খাওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু ডায়াবিটিস থাকলে আলু ও সাবুদানার মতো শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। তাই খাবারের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
ব্রতের নিয়ম মেনে খাওয়া যায় এমন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন দুধ, দই, বাদাম ও পনির, পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ধরন আলাদা। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়াই ভাল।
ভাজাভুজির বদলে বেছে নিন স্বাস্থ্যকর খাবার
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে গ্যাস, অম্বল বা অস্বস্তি হতে পারে। তার বদলে ব্রতের উপযোগী চালের খিচুড়ি, লাউয়ের তরকারি, পানিফলের আটার রুটি কিংবা অল্প তেলে তৈরি পনির ও সব্জির পদ খেতে পারেন।
ফল, দুধ, দই ও বাদাম দিয়ে স্মুদি বানিয়েও খাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। খাবারের পরিমাণ এবং মোট শর্করার দিকে নজর রাখতে হবে।
ডায়াবিটিস থাকলে ফল খাওয়ার নিয়ম কী?
ফলে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। তাই ডায়াবিটিস থাকলে ফলের ধরন ও পরিমাণ বুঝে খাওয়া জরুরি। শুধু ফল খাওয়ার বদলে সঙ্গে অল্প বাদাম রাখা যেতে পারে। বাদামে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কিছু ফাইবার থাকে। তবে বাদাম খেলেই ফলের শর্করা রক্তে ধীরে মিশবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফল খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কী ভাবে বদলাচ্ছে, সে দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
শুধু জল খেয়ে উপোস করা কি নিরাপদ?
ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কঠোর উপোস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষত, যাঁরা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর নির্দিষ্ট ওষুধ খান, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শর্করা বিপজ্জনক ভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কিছু পরিস্থিতিতে শর্করা বেড়েও যেতে পারে।
তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা বা সময় বদলানো কিংবা শুধু জল খেয়ে উপোস করা উচিত নয়। ব্রত পালনের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে খাবার, ওষুধ এবং রক্তে শর্করা মাপার পরিকল্পনা করে নেওয়া ভাল। উপোসের সময়ে মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
শারীরিক পরিশ্রম করলে আরও সতর্ক থাকুন
ব্রতের সময় ঘরের কাজ বা শারীরচর্চা চালিয়ে গেলে শরীরের শক্তির চাহিদা বদলাতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পুষ্টি ও জল গ্রহণ জরুরি। প্রোটিনের প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে আলাদা—বিশেষত কিডনির সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো প্রোটিন বাড়ানো উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, ডায়াবিটিস থাকলেও অনেকের পক্ষে পরিকল্পনা করে ব্রত পালন করা সম্ভব। তবে কঠোর উপোসের বদলে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, ওষুধ এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।