ওমানে আগেই উড়ান নিষিদ্ধ, তবু ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি!!
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কো-পাইলট হামাম আল-হামামিকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওমানেই আগে তাঁর বিমান চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কারণ হিসাবে উঠে এসেছে তাঁর কথিত উগ্র মতাদর্শ নিয়ে নিরাপত্তা-উদ্বেগ। পরে সেই ব্যক্তি কী ভাবে ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পেলেন, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, হামাম ওমানের নাগরিক। উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অনুমতি থাকলেও বিমান চালানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওমান এই বিষয়ে অন্য দেশ বা বিমান সংস্থাকে কোনও সতর্কবার্তা দিয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওমান সরকারও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।
তার পরেই হামাম ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ইজ়রায়েলগামী আন্তর্জাতিক রুটের উড়ানেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নিয়োগের সময় তাঁর আগের রেকর্ড কতটা খতিয়ে দেখা হয়েছিল? ওমানে যদি তাঁর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থেকে থাকে, তা কি ফ্লাইদুবাইয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ায় ধরা পড়েনি? তদন্তকারীরা এখন এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। অভিযোগ, মাঝ আকাশে হামাম ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অন্য পাইলটেরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান।
হামামকে প্রথমে সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত করছে আমিরশাহী। ইজ়রায়েলও পৃথক ভাবে হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এবং হামামের সঙ্গে অন্য কারও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, হামাম উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন এবং বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
ঘটনার পর বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ও পাইলটদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ওমানে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া একজন কী ভাবে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে পৌঁছলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।