শুভমনের ২২৩, রোহিতের শতরান, ৩৯ বল বাকি থাকতেই ৪০৬ রান টপকাল ভারত!!
৪০৫ রান করেও ম্যাচ জিততে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। গুয়াহাটির ব্যাটিং সহায়ক পিচে ক্যারিবিয়ানদের দেওয়া ৪০৬ রানের লক্ষ্য ৩৯ বল বাকি থাকতেই তুলে নিল ভারত। শুভমন গিলের অপরাজিত ২২৩ এবং রোহিত শর্মার ১০১ রানের সৌজন্যে ৪৩.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয় ভারতের। এই জয়ের সঙ্গে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়ও ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল শুভমন গিলের দল।
শুরু থেকেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন দুই ওপেনার রোহিত এবং শুভমন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের কার্যত কোনও সুযোগই দেননি তাঁরা। প্রথম উইকেটের জুটিতেই ২৬.২ ওভারে উঠল ২৫৫ রান। আগ্রাসী রোহিত ৭৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন। তাঁর ১০১ রানের ইনিংসে রয়েছে ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কা।
এই শতরানের সঙ্গে এক দিনের ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করলেন রোহিত। ২৮২তম ইনিংসে এই রান করে সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভাঙলেন তিনি। সচিন ৩০০তম ইনিংসে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন। তবে এই মাইলফলকে সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছনোর ভারতীয় এখনও বিরাট কোহলি—মাত্র ২৪২ ইনিংসে।
রোহিত আউট হওয়ার পরেও থামেনি ভারতের রান। অধিনায়ক শুভমন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। ৬২ বলে শতরান করার পর মাত্র ১১৭ বলে দ্বিশতরান পূর্ণ করেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেটে দ্রুততম দ্বিশতরানের নজির গড়ার পাশাপাশি ছুঁয়ে ফেলেন রোহিতের ১১৭ বলে দ্বিশতরানের রেকর্ড।
শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে ২২৩ রানে অপরাজিত থাকেন শুভমন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ২৬টি চার এবং ৮টি ছক্কা। এক দিনের ক্রিকেটে এটি তাঁর দ্বিতীয় দ্বিশতরান। বিশ্বের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে এই ফরম্যাটে একাধিক দ্বিশতরানের মালিকও হলেন তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শতরান করে এক দিনের ক্রিকেটে নিজের শতরানের সংখ্যা ১১-তে নিয়ে গেলেন ভারতীয় অধিনায়ক।
তবে বিরাট কোহলির ব্যাটে বড় রান এল না। সহজ পিচেও ১৯ বলে ২৯ রান করে আউট হন তিনি। রুতুরাজ গায়কোয়াড় ৩৭ বলে ৩১ রান করে শুভমনের সঙ্গে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুভমন। শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। জন ক্যাম্পবেল এবং শাই হোপের ব্যাটে দ্বিতীয় উইকেটে ওঠে ১১০ রান। ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ১০১ এবং হোপ ৯৪ বলে ১০৪ রান করেন।
এর পর আমির জাঙ্গোর ৭৭ বলে ১১৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। রোস্টন চেজ ২৫ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
তবে এমন রান করেও শেষরক্ষা হল না। গুয়াহাটির পাটা উইকেটে দুই দলের বোলাররাই কার্যত অসহায় ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের আলজ়ারি জোসেফ ৮ ওভারে ৮৯ রান দেন, কিমো পল ৩ ওভারে খরচ করেন ৪৯। ভারতের গুরনুর ব্রার ১০ ওভারে ৯৬ এবং আকিব নবি ৮.৫ ওভারে ৮৪ রান দেন।
ব্যাটারদের জন্য এমন স্বর্গীয় পিচ দর্শকদের বিনোদন দিলেও বোলারদের লড়াইয়ের সুযোগ প্রায় ছিল না। ফলে ম্যাচ জিতলেও গুয়াহাটির এই ২২ গজ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।