এক মাসে বদলে গেল যুবভারতী!
আর মাত্র কয়েক দিন পরেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নামবে ব্রাজ়িল। ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের ম্যাচ ঘিরে কলকাতায় যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন তার নেপথ্যে আরও একটি গল্প তৈরি হয়েছে—এক মাসের মধ্যে বদলে যাওয়া যুবভারতীর মাঠের। ব্রাজ়িলীয় ফুটবল কনফেডারেশনের প্রাথমিক পরিদর্শনে মাঠের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর এআইএফএফ-এর অনুরোধে কলকাতায় আসেন ব্রাজ়িলের মাঠ বিশেষজ্ঞ ইভান নাসিমেন্তো। প্রায় এক মাস স্থানীয় মাঠকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি পিচের আমূল পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
শুরুতে মাঠ দেখে উদ্বেগ
৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজ়িল প্রীতি ম্যাচ। ম্যাচটি হবে ব্রাজ়িলের সিনিয়র পুরুষ দলের ভারতের মাটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
কিন্তু ম্যাচ ঘোষণার পর ব্রাজ়িলের প্রতিনিধিরা কলকাতায় এসে মাঠ পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। মাটির বিভিন্ন অংশ ছিল অসমান, কোথাও কোথাও ঢেউয়ের মতো উঁচুনিচু ভাব ছিল। ঘাসও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি লম্বা হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি দেখে পিচের উন্নতির জন্য ব্রাজ়িলের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সাহায্য চায় এআইএফএফ।
সেই সূত্রেই ব্রাসিলিয়া থেকে কলকাতায় আসেন ইভান নাসিমেন্তো। প্রায় এক মাস শহরে থেকে তিনি স্থানীয় গ্রাউন্ড স্টাফদের সঙ্গে নিয়ে পুরো সংস্কারকাজ তদারকি করেন।
মাটি থেকে ঘাস—সব কিছুতেই নজর
ইভানের কাজের প্রথম ধাপ ছিল মাঠের মাটির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। তার পর শুরু হয় অ্যারেশন, ঘাসের পরিচর্যা, মাওয়িং এবং সার প্রয়োগের মতো একাধিক কাজ। পিচের নীচের মাটির স্তর যাতে ঠিক ভাবে বাতাস ও জল নিতে পারে, সে দিকেও নজর দেওয়া হয়।
লম্বা ঘাস ছেঁটে ফেলার পর নতুন ঘাসের বৃদ্ধির জন্য সময় দেওয়া হয়। তার পর ধীরে ধীরে তৈরি করা হয় ফুটবলের উপযোগী সমান পৃষ্ঠ। পুরো প্রক্রিয়ায় ব্রাজ়িল থেকে কোনও বিশেষ যন্ত্র এনে কাজ করতে হয়নি; স্থানীয় পরিকাঠামো এবং মাঠকর্মীদের সহযোগিতাতেই সংস্কারের কাজ এগিয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
‘স্থানীয় কর্মীদের অবদান ভোলার নয়’
এই কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্থানীয় মাঠকর্মীদের সঙ্গে ইভানের সমন্বয়। ভাষা আলাদা হলেও অনুবাদ প্রযুক্তির সাহায্যে দু’পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। ইভানের সঙ্গে কাজ করা কর্মীদের পরিশ্রমের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
ইভানের তত্ত্বাবধানে প্রায় এক মাসের এই পরিশ্রমের পর পিচ এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পথে। ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, মাঠটি প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত এবং ৩ অক্টোবর ব্রাজ়িলের ম্যাচের আগে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছিল।
সামনে ভারত-ব্রাজ়িলের ঐতিহাসিক ম্যাচ
৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় যুবভারতীতে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এন্ড্রিক, মারকুইনহোস এবং ব্রুনো গিমারায়েসের মতো তারকারা ব্রাজ়িলের ঘোষিত দলে রয়েছেন।
মাঠ নিয়ে যে উদ্বেগ দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি, এখন সেই পিচেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় দলের ম্যাচ আয়োজনের অপেক্ষা। যুবভারতীর এই পরিবর্তনের পিছনে তাই ইভান নাসিমেন্তোর প্রায় এক মাসের পরিশ্রমের গল্পটিও আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।