যুবভারতী কাণ্ডে ৩৭ দিনের পরে স্বস্তি: ১০ হাজার টাকার বন্ডে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত

যুবভারতী কাণ্ডে ৩৭ দিনের পরে স্বস্তি! যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির ভারত সফর ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রায় ৩৭ দিন জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন আয়োজক…

January 20, 2026
1 min read

যুবভারতী কাণ্ডে ৩৭ দিনের পরে স্বস্তি!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির ভারত সফর ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রায় ৩৭ দিন জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। সোমবার বিধাননগর আদালত ১০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

শতদ্রুর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, মামলার এই পর্যায়ে তদন্তে বিশেষ কোনও অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু, তাঁকে জেলে গিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যদের জামিন দেওয়া হয়েছে, তা হলে শতদ্রুকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজন কী? এই যুক্তিতেই আদালতের কাছে জামিনের আবেদন জানানো হয়।

অন্য দিকে, সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে দাবি করেন, সাক্ষীদের ভয় দেখানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক শেষ পর্যন্ত শতদ্রুর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

কী হয়েছিল যুবভারতীতে?

গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসিকে দেখতে হাজার হাজার দর্শক ভিড় জমিয়েছিলেন। বহু মানুষ মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে টিকিট কাটেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের বেশির ভাগ সময় মাঠের মধ্যে আয়োজক এবং রাজনৈতিক নেতাদের ভিড়েই ঘিরে ছিলেন মেসি। গ্যালারি থেকে তাঁকে ঠিক ভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ জমতে থাকে দর্শকদের মধ্যে।

মেসি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর সেই ক্ষোভই রূপ নেয় বিক্ষোভে। গ্যালারিতে ভাঙচুর হয়, চেয়ার ভাঙা হয়, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই দিনই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে।

বিতর্কের কেন্দ্রে কে কে?

ঘটনার পরে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মেসির অত্যন্ত কাছাকাছি থাকার অভিযোগ ওঠে। সমালোচনার ঝড়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। অভিযোগ, ভিড়ের চাপে মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পলের শরীরেও আঘাত লাগে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত মেসিকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেন।

এর পরেই শুরু হয় গ্যালারিতে তাণ্ডব। ক্ষুব্ধ দর্শকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন, ভাঙচুর চলে চূড়ান্ত পর্যায়ে।

মামলা ও গ্রেফতার

এই ঘটনায় বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হয়। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেফতার ছিলেন শতদ্রু। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ আদালতে জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখার জন্য টিকিট কেটেছিলেন এবং প্রায় ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। জামিন পেলে শতদ্রু প্রভাব খাটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কাতেই তাঁর আগের জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল।

অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস

দীর্ঘ ৩৭ দিনের অপেক্ষার পরে অবশেষে আদালতের নির্দেশে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত। যদিও মামলা এখনও চলমান, তবে আপাতত জেল থেকে বেরিয়ে তিনি কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারলেন—এটাই এখন তাঁর পরিবারের ও অনুগামীদের কাছে সবচেয়ে বড় খবর।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *