যুবভারতী বিশৃঙ্খলা তদন্তে গতি বাড়াতে তৎপর রাজ্য: সিটের সদস্য সংখ্যা বাড়তে পারে আটে

যুবভারতী বিশৃঙ্খলা তদন্তে গতি বাড়াতে তৎপর রাজ্য! যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছিল, তার তদন্তে আরও কড়া ও বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা…

December 18, 2025
1 min read

যুবভারতী বিশৃঙ্খলা তদন্তে গতি বাড়াতে তৎপর রাজ্য!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছিল, তার তদন্তে আরও কড়া ও বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ মেনেই মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশ চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে। কিন্তু তদন্তের গুরুত্ব এবং ব্যাপ্তি বিবেচনা করে এ বার সেই সিটের সদস্যসংখ্যা চার থেকে বাড়িয়ে আট করার ভাবনা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

গত শনিবার যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান চলাকালীন ভিড়, নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড়সড় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেই ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, কোথায় গাফিলতি হয়েছিল এবং কারা দায়ী— তা খুঁজে বের করতেই সিটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চার সদস্যের এই দলে রয়েছেন রাজ্যের নিরাপত্তা অধিকর্তা পীযূষ পাণ্ডে, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম, এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার এবং ব্যারাকপুর পুলিশের কমিশনার মুরলীধর। প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত, তদন্তকে আরও গভীর করতে ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিক-সহ আরও কয়েক জনকে দলে যুক্ত করা হতে পারে।

তদন্তের পাশাপাশি প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলছে জোরকদমে। বুধবার ফরেন্সিক দল যুবভারতী স্টেডিয়ামে গিয়ে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে। পড়ে থাকা জলের বোতল, বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। ভাঙচুর হওয়া অংশগুলির ছবি তোলা হয়েছে এবং নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এগুলির মাধ্যমে ঘটনার সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা পুনর্গঠন করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একটি উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ শীর্ষ আধিকারিকেরা ওই কমিটিতে ছিলেন। সোমবার রাতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, মেসির সফর এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও ক্রীড়া দফতর নিজেদের দায় এড়াতে পারে না।

কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিট গঠনের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পুলিশ ও ক্রীড়া দফতরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, বিধাননগর পুলিশের কমিশনার অনীশ সরকার এবং ক্রীড়া ও যুববিষয়ক দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে। যুবভারতীর সিইও দেবকুমারকেও পদ থেকে সরানো হয়েছে।

বুধবার সকালে তদন্তকারী দল আবার যুবভারতীতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। পরে তারা বিধাননগর কমিশনারেটের দফতরে গিয়ে বৈঠক করে। ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

সব মিলিয়ে, যুবভারতীকাণ্ডে তদন্তকে কোনওভাবেই হালকা ভাবে নিতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। সিটের পরিসর বাড়ানোর ভাবনাই সেই তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *