‘ভারত-পাকিস্তানকে জিজ্ঞেস করুন, উত্তর একই’, রাষ্ট্রপুঞ্জে বিশ্বব্যবস্থার ফাঁক দেখালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপুঞ্জে বিশ্বব্যবস্থার ফাঁক দেখালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী! নেপালের ভয়াবহ বন্যাকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নানা অসাম্যের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধের অস্ত্র…

September 26, 2026
1 min read

রাষ্ট্রপুঞ্জে বিশ্বব্যবস্থার ফাঁক দেখালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী!

নেপালের ভয়াবহ বন্যাকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নানা অসাম্যের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধের অস্ত্র দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যায়, অথচ সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় খাবার, জ্বালানি বা কৃষির সার পৌঁছতে সমস্যার শেষ নেই।

রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে নিজের প্রথম বক্তৃতায় নেপালের সাম্প্রতিক বোটেকোশী-ত্রিশূলী বন্যার প্রসঙ্গ তোলেন শাহ। তাঁর কথায়, এই বিপর্যয় শুধু নেপালের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, গোটা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের পরিবেশ ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে বলেও জানান তিনি।

এর পরেই আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, রাইফেল ও গোলাবারুদ নানা বাধা পেরিয়ে সময়মতো পৌঁছে যায়। কিন্তু নেপালের কৃষককে প্রয়োজনের সময়ে সার বা জ্বালানি পেতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে যেখানে যুদ্ধের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর, অথচ খাবার ও কৃষির প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্ষেত্রে তা ভেঙে পড়ে।

এই প্রসঙ্গেই দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের নাম করেন শাহ। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দেশগুলির অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—যে জলবায়ু সংকট তারা তৈরি করেনি, তার প্রভাব তাদেরই বহন করতে হচ্ছে; আবার তারা যে যুদ্ধ শুরু করেনি, তার প্রভাবও পড়ছে তাদের উপর।

বক্তৃতায় অবশ্য প্রতিবেশী দেশগুলির সাহায্যের কথাও স্বীকার করেন শাহ। বন্যার পর ভারত ও চিন দ্রুত সহায়তা পাঠানোয় নেপালের তরফে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিপর্যয়ে অন্তত ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬,০০০-এর বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে শাহ জানান।

জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত ও চিনকে সঙ্গে নিয়ে ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজ়িলিয়েন্স মেকানিজ়ম’ গড়ার প্রস্তাবও দেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, উপগ্রহের তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, হিমবাহ ও বিপজ্জনক হ্রদের নজরদারি এবং আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থায় তিন দেশ সহযোগিতা করতে পারে।

শাহের মতে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব সীমান্ত মানে না। তাই ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন ভাবে নয়, আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *