ত্রিশূলী প্রকল্পে এখনও ভিতরে আরও কয়েক জন
নেপালের রাসুয়া জেলায় ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় ভয়াবহ হড়পা বান ও কাদাধসের পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া দুই শ্রমিককে ন’দিন পর জীবিত উদ্ধার করল নেপালি সেনা। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের নাম সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কয়েক জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ত্রিশূলী শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণে চলছে ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। মাটির নীচে তৈরি হচ্ছে বিশাল পাওয়ারহাউস। সেখানে পৌঁছনোর জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ। হড়পা বানের জলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদামাটি ঢুকে সেই সুড়ঙ্গের মুখ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
কী ভাবে আটকে পড়েছিলেন শ্রমিকেরা?
সঞ্জয়ের বয়ান অনুযায়ী, সাধারণত সুড়ঙ্গের ভিতরে পাঁচ-ছ’জন শ্রমিক থাকার কথা। কিন্তু বিপর্যয়ের দিন কোনও কারণে সেখানে প্রায় ৪২ জন ছিলেন। বান আসার খবর পেয়ে সঞ্জয় দ্রুত অন্যদের বেরিয়ে যেতে বলেন। একে একে শ্রমিকদের বাইরে পাঠাতে গিয়ে তাঁর নিজের বেরোনোর সময় হয়ে ওঠেনি। জলের প্রবল তোড়ে কয়েক জন আরও গভীরে চলে গিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সুড়ঙ্গের নীচের অংশে তৈরি পাওয়ারহাউসে শ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থাও ছিল। ছিল রান্নাঘর এবং খাবারের মজুত। তবে ন’দিন ধরে আটকে থাকার পরে সেগুলির কী অবস্থা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সঞ্জয় জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ সময় তিনি ঈশ্বরকে স্মরণ করে এবং মন্ত্র জপ করেই কাটিয়েছেন।
কী ভাবে উদ্ধার করল সেনা?
উদ্ধারকারীরা একসঙ্গে একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। কাদামাটি সরিয়ে সুড়ঙ্গের মুখ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উপর দিক থেকেও মাটি খুঁড়ে সুড়ঙ্গের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা এমন গর্ত তৈরির চেষ্টা করছেন, যার মধ্যে দিয়ে দড়ি নামিয়ে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের একে একে বাইরে আনা যায়। পাশাপাশি ড্রোনে থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত মানুষের উপস্থিতির সন্ধান চলছে।
দুই শ্রমিককে উদ্ধারের সময় ভিতর থেকে আরও মানুষের গলার আওয়াজ পাওয়া গিয়েছে। সঞ্জয়ও জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে এবং আরও তিন-চার জন শ্রমিক ভিতরে রয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন।
বাকি শ্রমিকদের উদ্ধার করা কতটা সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অনিশ্চিত। নেপালি সেনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উজ্জ্বল রানা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতর তরল কাদামাটিতে ভরে রয়েছে। সেই কাদা সরিয়ে পুরো সুড়ঙ্গ পরিষ্কার করতে কয়েক দিন তো বটেই, কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, তিন-চার মাসেও কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
শুক্রবার ওই সুড়ঙ্গ থেকেই আরও এক জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহটি এমন অবস্থায় রয়েছে যে আপাতত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীদের অনুমান, হড়পা বান থেকে বাঁচতে গিয়ে তিনি সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকে পড়েছিলেন এবং জলের তোড়ে আটকে যান।
সব মিলিয়ে ত্রিশূলী ৩-এ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। জীবিত শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হলেও তাঁদের কাছে দ্রুত পৌঁছনোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বিপর্যয়ের পর বহু শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।