‘ভারত, চিন, আমেরিকার দূষণের ফল ভুগছে নেপাল’! ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাষ্ট্রপুঞ্জে শাহ

‘ভারত, চিন, আমেরিকার দূষণের ফল ভুগছে নেপাল’!! হড়পা বান, হিমবাহ ধস এবং তার জেরে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি— পর পর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত বিধ্বস্ত নেপাল। কাঠমান্ডুর প্রাথমিক মূল্যায়ন, এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে মানবসৃষ্ট…

September 2, 2026
1 min read

‘ভারত, চিন, আমেরিকার দূষণের ফল ভুগছে নেপাল’!!

হড়পা বান, হিমবাহ ধস এবং তার জেরে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি— পর পর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত বিধ্বস্ত নেপাল। কাঠমান্ডুর প্রাথমিক মূল্যায়ন, এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর সেই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলির কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করতে চাইছে নেপাল।

এই দাবিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল জানিয়েছেন, ভারত, চিন এবং আমেরিকা— এই তিন দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশের তালিকায় রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই নির্গমনের প্রভাব শুধু ওই দেশগুলিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, গোটা বিশ্বের জলবায়ুতেই তার প্রভাব পড়ে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলিকে যে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে, তার দায়ও ধনী ও বেশি দূষণকারী দেশগুলির নিতে হবে।

খনাল নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘কান্তিপুর টিভি’-কে বলেন, কাঠমান্ডু কোনও দয়া বা অনুদান চাইছে না। তাদের দাবি, বিষয়টিকে ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দৃষ্টিতে দেখা হোক। তাঁর কথায়, “আমরা সাহায্য নয়, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাইছি।” তাঁর দাবি, এটি মানবিকতার খাতিরে দেওয়া অর্থ নয়, বরং নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

নেপাল ইতিমধ্যেই বিপর্যয়ের পর পুনর্গঠনের খরচের প্রাথমিক হিসাব করেছে। কাঠমান্ডুর অনুমান, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ৫০০ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪৭ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ুজনিত বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য থাকা বিশেষ তহবিল থেকেও জরুরি আর্থিক সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। তবে সেই অর্থকে নিছক অনুদান হিসেবে নয়, ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবেই দেখতে চাইছে নেপাল।

৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিউ ইয়র্কে শুরু হওয়ার কথা রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভার। প্রথমে সেখানে নেপালের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল বিদেশমন্ত্রী খনালের। কিন্তু নিজেদের দাবি আন্তর্জাতিক মহলে আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণ সভার মঞ্চে তিনি নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন।

এর আগে সোমবার নেপালের পরিবেশ মন্ত্রকের অধীন জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকালও বিপর্যয়ের জন্য ধনী দেশগুলির দিকে আঙুল তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর যে হড়পা বান নেমেছিল, তার অন্যতম কারণ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলির বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল ভুগতে হচ্ছে নেপালের মতো দেশগুলিকে। তাঁর কথায়, যারা দূষণে সবচেয়ে কম অবদান রেখেছে, তারাই অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত ১,১২৭ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪,৮৫৮ জন। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যেতে চাইছে কাঠমান্ডু।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *