পুতিনকে বার্তা মোদীর
দু’সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার মুখোমুখি নরেন্দ্র মোদী ও ভ্লাদিমির পুতিন। ব্রিক্স সম্মেলনের আগে শুক্রবার দিল্লিতে বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং রুশ প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও জ্বালানি থেকে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা সংঘাতের প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মোদী।
পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হয়। এই সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরও পড়ছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মোদী জানান, আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক পথেই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোনও উদ্যোগে ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও পুতিনকে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবারের বৈঠকে অর্থনীতি, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয় বলে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। বৈঠকের শেষে পুতিনকে তামিল দার্শনিক তিরুভল্লুভারের নীতিশাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তিরুকুড়াল’-এর ইংরেজি অনুবাদ উপহার দেন মোদী। পাল্টা ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।
এই বৈঠকের পর আবারও নজর কাড়ে দুই রাষ্ট্রনেতার একসঙ্গে গাড়িতে ওঠার দৃশ্য। দিল্লিতে বৈঠক শেষ হওয়ার পর একই গাড়িতে ওঠেন মোদী ও পুতিন। এর ফলে ফের সামনে এল প্রধানমন্ত্রীর কথিত ‘গাড়ি কূটনীতি’।
এর আগে গত ৩১ অগস্ট কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের সময়ও একই রকম দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। সে বার পুতিনের লিমুজ়িনে সওয়ার হয়েছিলেন মোদী। দু’সপ্তাহের মধ্যে আবার একই ভাবে একসঙ্গে গাড়িতে দেখা গেল দুই রাষ্ট্রনেতাকে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত মার্চে ভারতকে এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমানের রফতানি সংস্করণ এসইউ-৫৭ই-এর যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। সেই প্রেক্ষাপটে শুক্রবারের বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে এর আগে একাধিক বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে মোদী-পুতিনের বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলির একটি ছিল সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান। যুদ্ধ বা সংঘাতের বদলে আলোচনার টেবিলেই সমাধান খোঁজার বার্তা দিয়ে মোদী ফের জানিয়ে দিলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে দিল্লি নিজের ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।