মোদীর ‘তিন আচরণবিধি’!
বুধবার সংসদের অধিবেশন বিরোধীদের বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়ার মধ্যেই রাজ্যসভার নবনির্বাচিত এনডিএ সাংসদদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩০ জন সাংসদ। তাঁদের উদ্দেশে সংসদীয় আচরণ, জনজীবনে দায়িত্বশীলতা এবং ব্যক্তিগত কর্মশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
নতুন সাংসদদের জন্য মোদীর তিন পরামর্শ
সূত্রের দাবি, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে তিনটি বিষয়ে জোর দেন—
- সাংসদদের লেটারহেডের অপব্যবহার না করার পরামর্শ।
- ফোনে কথা বলার সময় সবসময় ভদ্র ও সংযত আচরণ করার নির্দেশ।
- বিরোধী দলের সাংসদ হলেও তাঁদের কাছ থেকে সংসদীয় রীতি ও অভিজ্ঞতা শেখার মানসিকতা রাখার আহ্বান।
মোদীর মতে, সংসদে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সংসদীয় শিষ্টাচার শেখার ক্ষেত্রে কোনও দলীয় বিভাজন থাকা উচিত নয়।
নিজের দৈনন্দিন রুটিনও ভাগ করে নিলেন
প্রাতরাশের সময় সাংসদেরা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন করেন। উত্তরে মোদী জানান, তিনি বিছানায় শোওয়ার মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন এবং দিনে প্রায় তিন ঘণ্টাই ঘুমোন।
বিদেশ সফরে জেটল্যাগ এড়ানোর কৌশলও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর কথায়, বিমানে ওঠার পরই তিনি গন্তব্য দেশের সময় অনুযায়ী নিজের ঘড়ি মিলিয়ে নেন, যাতে শরীর দ্রুত নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
মনোযোগই সাফল্যের চাবিকাঠি
বৈঠকে কর্মক্ষেত্রে শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাংসদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে যে কাজ করছেন, সেই কাজেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংসদের অধিবেশনে ১০০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
কারা ছিলেন বৈঠকে?
এই প্রাতরাশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ রাজ্যসভার নবনির্বাচিত এনডিএ সাংসদেরা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এনডিএ-র শক্তি রাজ্যসভায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সদস্যদের সংসদীয় দায়িত্ব ও আচরণবিধি সম্পর্কে দিকনির্দেশ দিতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অন্য দিকে, একই দিনে বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভের জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম সারা দিনের জন্য মুলতুবি হয়ে যায়। এই রাজনৈতিক আবহেই প্রধানমন্ত্রী নতুন সাংসদদের দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সংসদীয় ভূমিকার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?