ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ‘ঘরের শত্রু’ খুঁজতে মরিয়া ট্রাম্প! ৫০ সামরিক কর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষায় চাঞ্চল্য

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ‘ঘরের শত্রু’ খুঁজতে মরিয়া ট্রাম্প!! ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্দরে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে তৎপরতা বাড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে একের পর…

September 5, 2026
1 min read

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ‘ঘরের শত্রু’ খুঁজতে মরিয়া ট্রাম্প!!

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্দরে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে তৎপরতা বাড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য। সেই ফাঁসের উৎস খুঁজতেই এ বার জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মীকে পলিগ্রাফ বা ‘লাই ডিটেক্টর’ পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মী কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে বেছে নেওয়া ৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি পলিগ্রাফ পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সামরিক অভিযান, যুদ্ধের পরিকল্পনা, প্রতিরক্ষা নীতি এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে এই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কেন এতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসন? এর নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে একের পর এক ফাঁস হওয়া তথ্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ও থাড-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে মার্কিন সেনার ব্যবহৃত উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস-এর মতো নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে এসেছে। একই সঙ্গে টোমাহক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো ব্যয়বহুল অস্ত্রও বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এই তথ্য কী ভাবে সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছল, সেটাই এখন মার্কিন গোয়েন্দাদের অন্যতম বড় প্রশ্ন। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চাইছেন, তাঁরা কোনও সাংবাদিকের সঙ্গে গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য ভাগ করেছিলেন কি না। যুদ্ধের কারণে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য বাইরে পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জয়েন্ট স্টাফের কর্মীদের মধ্যে ৫০ জনকে বেছে নিয়ে পলিগ্রাফ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রাক্তন সামরিক কর্তাদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর উদ্দেশ্য শুধু সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসকারীর সন্ধান নয়। একই সঙ্গে সেনা ও প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়াও এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর বক্তব্য, কর্মী বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের বিষয়ে বিভাগ সাধারণত মন্তব্য করে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এবং সেই অনুযায়ী তদন্ত চালানো হয়।

এ দিকে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি আর একটি বিষয়ও ওয়াশিংটনকে ভাবাচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরান তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের অত্যন্ত ব্যয়বহুল সামরিক ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে বিপুল খরচের উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের চাপ আরও বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের গোপন তথ্য বাইরে চলে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে শুধু রাজনৈতিক অস্বস্তির বিষয় নয়, সামরিক নিরাপত্তারও বড় ঝুঁকি। তাই পেন্টাগনের অন্দরেই তথ্য ফাঁসের ‘উৎস’ খুঁজতে তদন্ত আরও জোরদার হচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *