চিনের ঋণের জালে কোন কোন দেশ? পাকিস্তান-রাশিয়া থেকে আফ্রিকা, তালিকায় কার কত দেনা

পাকিস্তান-রাশিয়া থেকে আফ্রিকা চিনের পরিকাঠামো বিনিয়োগ ও ঋণ কর্মসূচি গত দুই দশকে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বহু দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। রেল, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাইপলাইন থেকে শুরু করে…

August 23, 2026
1 min read

পাকিস্তান-রাশিয়া থেকে আফ্রিকা

চিনের পরিকাঠামো বিনিয়োগ ও ঋণ কর্মসূচি গত দুই দশকে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বহু দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। রেল, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাইপলাইন থেকে শুরু করে জ্বালানি প্রকল্প—বিভিন্ন খাতে বেজিংয়ের অর্থায়ন যেমন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনই কিছু দেশের ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য ও বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাকিস্তান, রাশিয়া, ভেনেজ়ুয়েলা, কাজ়াখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, কেনিয়া, জাম্বিয়া এবং লাওস-এর মতো দেশ চিনা অর্থায়নের উপর উল্লেখযোগ্য ভাবে নির্ভরশীল।

পাকিস্তান: চিনা ঋণের বড় বোঝা

চিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা CPEC-এর অধীনে বিদ্যুৎ, রাস্তা ও পরিকাঠামো প্রকল্পে বিপুল অর্থ ঢেলেছে বেজিং। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি হিসাব অনুযায়ী, সরকারি ও দ্বিপাক্ষিক ঋণ মিলিয়ে পাকিস্তানের কাছে চিনের পাওনা প্রায় ২.২০-২.৫৮ লক্ষ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ চিনের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইসলামাবাদের অর্থনীতিতে বেজিংয়ের প্রভাবও যথেষ্ট বেড়েছে।

রাশিয়াও কি চিনের ঋণগ্রহীতা?

রাশিয়া চিনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা নিলেও দুই দেশের মধ্যে ঋণের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ্যে নেই। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ায় মস্কোর অর্থনৈতিক নির্ভরতা চিনের উপর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রাশিয়ার চিনা ঋণের নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য হিসাব না থাকায় অনুমানকে তথ্য হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

আফ্রিকা থেকে লাতিন আমেরিকা

চিনা ঋণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে। যেমন—

দেশচিনের কাছে আনুমানিক ঋণ/দায়
🇵🇰 পাকিস্তান₹২.২০–২.৫৮ লক্ষ কোটি
🇻🇪 ভেনেজ়ুয়েলা₹১–১.৫ লক্ষ কোটি
🇰🇿 কাজ়াখস্তান₹১.২৩ লক্ষ কোটি
🇦🇴 অ্যাঙ্গোলাপ্রায় ₹৬৫ হাজার কোটি
🇰🇪 কেনিয়াপ্রায় ₹৪৫ হাজার কোটি
🇮🇩 ইন্দোনেশিয়াসরাসরি দ্বিপাক্ষিক ঋণ প্রায় ₹২,৪৪৭ কোটি

ভেনেজ়ুয়েলার ক্ষেত্রে তেল-ভিত্তিক ঋণ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। কাজ়াখস্তানে পাইপলাইন ও পরিবহণ প্রকল্পে চিনা অর্থায়ন হয়েছে। আবার অ্যাঙ্গোলা চিনা ঋণের একটি বড় অংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহের মাধ্যমে মিটিয়েছে।

‘ঋণের ফাঁদ’ নিয়ে বিতর্ক

চিনের ঋণনীতি নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হল ‘Debt Trap Diplomacy’ বা ঋণের ফাঁদ। সমালোচকদের অভিযোগ, তুলনামূলক দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলিকে বড় পরিকাঠামো প্রকল্পে ঋণ দিয়ে পরে তাদের উপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ায় বেজিং।

তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। সব চিনা ঋণই যে ‘ফাঁদ’, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও ঠিক নয়। অনেক প্রকল্প বাস্তবিকই বন্দর, রেল, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছে। সমস্যা তৈরি হয় যখন প্রকল্পের ব্যয়, আয় এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকে না।

ভারতের জন্য কেন উদ্বেগ?

পাকিস্তান ও চিনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। CPEC পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে চিনা বিনিয়োগকে নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখে।

অর্থাৎ, চিনের ঋণনীতি শুধু অর্থনীতির হিসাব নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বন্দর, জ্বালানি, সামরিক সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাবের অঙ্কও।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *