পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় তেল সঙ্কট: কেন ভারত সামলে গেল, পিছিয়ে পড়ল পাকিস্তান?

কেন ভারত সামলে গেল, পিছিয়ে পড়ল পাকিস্তান? পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ভারত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে, অন্যদিকে পাকিস্তান তীব্র…

May 2, 2026
1 min read

কেন ভারত সামলে গেল, পিছিয়ে পড়ল পাকিস্তান?

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ভারত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে, অন্যদিকে পাকিস্তান তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে। কেন এই পার্থক্য? সেই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পরভেজ় মালিক।

সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, দুই দেশের প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক শক্তির পার্থক্যই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

প্রথমেই আসা যাক ভারতের প্রসঙ্গে। মালিকের মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কৌশলগত তেলের মজুত (Strategic Reserve)। এই মজুতের ফলে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ হলেও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগেনি। শুধু তা-ই নয়, ভারতের হাতে রয়েছে শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও একাধিক উৎস থেকে তেল কিনে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

এর পাশাপাশি ভারত সরকার সময় মতো কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপও কিছুটা কমিয়েছে। অর্থাৎ, পরিকল্পনা ও আর্থিক সক্ষমতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই ভারত পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ছবি একেবারেই আলাদা। মালিকের কথায়, তাদের দেশে তেলের কোনও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত মজুত নেই। মূলত বাণিজ্যিক মজুতের উপরই নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে তাদের কাছে মাত্র ৫–৭ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং প্রায় ২০ দিনের মতো পরিশোধিত জ্বালানি রয়েছে। ফলে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই সংকট তৈরি হচ্ছে।

পাকিস্তানের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর শর্তাবলি। আইএমএফ-এর বেলআউট প্যাকেজের আওতায় থাকায় তারা সহজে কর কমাতে বা বড়সড় ভর্তুকি দিতে পারে না। ফলে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ মানুষের উপর।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানকে আইএমএফ-এর সঙ্গে আলোচনা করে শুল্ক কমাতে হয়েছে। ডিজ়েলের উপর কর কমিয়ে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, সামগ্রিক সমস্যা থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট—
👉 ভারতের ক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনা, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং কৌশলগত মজুত বড় ভূমিকা নিয়েছে।
👉 পাকিস্তানের ক্ষেত্রে মজুতের অভাব, সীমিত আর্থিক ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক শর্তের চাপ পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে।

তবে মালিক আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকেও জোর দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে প্রস্তুতিই আসল শক্তি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *