ইরান যুদ্ধে পাশে না থাকায় সোলকে ‘শাস্তি’ ট্রাম্পের?
ইরান সংঘাতে আমেরিকার পাশে দক্ষিণ কোরিয়া না দাঁড়ানো নিয়ে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ার সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের প্রশংসা এবং তাঁর সঙ্গে ফের বৈঠকের ইঙ্গিত দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার বার্ষিক সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ চলছিল ১৭ অগস্ট থেকে। ২৭ অগস্ট পর্যন্ত এই মহড়া চলার কথা থাকলেও এখন তা ২১ অগস্টেই শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু সময় কমানো নয়, মহড়ার বেশ কিছু কর্মসূচিও বাতিল করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরান প্রসঙ্গে ক্ষোভ ট্রাম্পের
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে এই দেশগুলির নিরাপত্তায় সাহায্য করছে, কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ওয়াশিংটনকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেয়নি তারা।
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউই প্রত্যাশিত ভাবে এগিয়ে আসেনি।
এর পরেই যৌথ সামরিক মহড়ায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিছক সামরিক পরিকল্পনার পরিবর্তন, নাকি সোলের উপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ তৈরির কৌশল?
১১ দিনের মহড়া নেমে এল ৫ দিনে
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ এবং পেন্টাগনের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বার্ষিক সামরিক মহড়া ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও বাতিল হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার অনুশীলন রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে যে পাল্টা আক্রমণাত্মক অভিযানের মহড়া হওয়ার কথা ছিল, সেটি আপাতত হচ্ছে না।
এই পরিবর্তন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কিমের প্রশংসায় ট্রাম্প, বাড়ছে জল্পনা
অন্য দিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত মধুর’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। আগামী দিনে কিমের সঙ্গে ফের বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
২০১৮ সালের জুনে সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। পরে ২০১৯ সালে দুই নেতার মধ্যে আরও বৈঠক হয়েছিল। তাই নতুন করে সাক্ষাতের সম্ভাবনা সামনে আসায় কোরীয় উপদ্বীপের কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা বেড়েছে।
৭৬ বছর আগের যুদ্ধের ছায়া কি ফিরবে?
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কোরীয় উপদ্বীপ ৩৮তম অক্ষরেখা বরাবর ভাগ হয়ে যায়। ১৯৫০ সালে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের পর শুরু হয় কোরীয় যুদ্ধ। আমেরিকা দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নামে এবং ১৯৫৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে সংঘর্ষ থামে।
এর পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভরসা আমেরিকা। ১৯৫৩ সালের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রয়েছে।
তাই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সেনা বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কমানোর মতো কোনও সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নেওয়া হলে তার প্রভাব শুধু সোল নয়, জাপান এবং গোটা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণেও পড়তে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া কি আরও শক্তিশালী হবে?
সামরিক শক্তির দিক থেকে গত কয়েক দশকে দক্ষিণ কোরিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক, ড্রোন, কামান, যুদ্ধবিমান ও ডুবোজাহাজ তৈরি করে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারেও নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে তারা।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মার্কিন নিরাপত্তার ছাতা দুর্বল হলে সোলকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। জাপানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ট্রাম্পের সামরিক মহড়ায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত কেবল ওয়াশিংটন-সোল সম্পর্কের বিষয় নয়—এর প্রভাব এশিয়ার বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণেও পড়তে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।