আশিসের নোটে আর কী লেখা ছিল?
রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে একটি এক পাতার ‘সুইসাইড নোট’। রবিবার সকালে বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরে তাঁর দেহের কাছ থেকে পাওয়া ওই নোটে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকার দাবি করার পাশাপাশি রাজনীতিতে আসা নিয়েও আক্ষেপের কথা লিখে গিয়েছেন আশিস।
তবে নোটটি সত্যিই আশিসের লেখা কি না এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
‘কোনও দিন দুর্নীতিতে জড়িত হইনি’
নোটে আশিস দাবি করেছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীনও কোনও দুর্নীতিতে জড়াননি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও তা কখনও ব্যক্তিগত শত্রুতার পর্যায়ে পৌঁছয়নি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বা অন্যায় মেনে নিতে না পারলেও সব সময় প্রতিবাদ করতে পারেননি। একই সঙ্গে কোনও কাজের বিনিময়ে জীবনে এক পয়সাও নেননি বলে দাবি করেছেন।
টিআরডিএ নিয়ে কী দাবি?
তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ-তে নিজের ভূমিকা নিয়েও নোটে বিস্তারিত দাবি করেছেন আশিস। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ সভা ছাড়া সেখানে তাঁর বিশেষ কোনও দায়িত্ব ছিল না। টেন্ডার কমিটিতে তিনি ছিলেন না, চেক সংক্রান্ত ক্ষমতাও তাঁর হাতে ছিল না। এমনকি প্ল্যান পাশ বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়েও তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন আশিস। সেই প্রসঙ্গেই রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে হয়েছে তাঁর। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শও দিয়েছেন।
শিক্ষকজীবনের কথাও নোটে
রাজনীতির পাশাপাশি নিজের শিক্ষকতার জীবন নিয়েও লিখেছেন আশিস। তাঁর দাবি, সারা জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন এবং কখনও ক্লাস ফাঁকি দেননি। অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি বহু ছাত্রছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। ছাত্রদের কাছ থেকে পাওয়া ভালবাসার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।
এর পর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন। নোটের শেষ দিকে স্পষ্ট ভাবে লিখেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। কোনও রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করে সরাসরি অভিযোগও করেননি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর কী হয়েছিল?
আশিস ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি মন্ত্রীও হন। স্কুলশিক্ষা এবং কৃষি দফতরের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার ছিলেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাটে বিজেপি প্রার্থীর কাছে ২৪ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন তিনি। নির্বাচনের পর তাঁকে তুলনামূলক ভাবে কম সক্রিয় দেখা গিয়েছিল।
এখন তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে পাওয়া নোটের সত্যতা, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং এর নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।