সিনেমা থেকে আধ্যাত্মিকতা—আড্ডায় অকপট জিৎ!
প্রায় দু’বছর পর বড়পর্দায় ফিরছেন জিৎ। নতুন ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে একাধিক লুকে। ছবির প্রচারের আগে আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডায় সিনেমা, অভিনয়, আধ্যাত্মিকতা এবং বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা।
প্রায় দু’বছর পর বড়পর্দায় ফিরছেন জিৎ। নতুন ছবিতে একসঙ্গে একাধিক অবতারে দেখা যাবে তাঁকে। সাধারণত ছবির প্রচার ছাড়া সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব একটা আসেন না অভিনেতা। তবে এ বার নিজের নতুন ছবি, অভিনয়ের ধরন এবং ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে বেশ কিছু কথা বললেন তিনি।
জিৎ মনে করেন, অকারণে কথা বলার চেয়ে ছবির মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, তিনি মিডিয়ার অংশ এবং মিডিয়াও তাঁদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিয়মিত ছবি করার চেষ্টা করেন তিনি।
‘সংসারের দায়িত্ব পালন করাই বড় আধ্যাত্মিকতা’
নিজেকে আধ্যাত্মিক মানুষ বলেই মনে করেন জিৎ। তাঁর পরিবারেও আধ্যাত্মিকতার প্রভাব রয়েছে। তবে তাঁর কাছে আধ্যাত্মিকতা শুধু ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেও সেই উপলব্ধি অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন অভিনেতা।
জিৎ বলেন, ঈশ্বরের কাছে গিয়ে যেমন অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়, তেমনই সংসারের মধ্যে থেকেও তা সম্ভব। বরং সংসারের দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করতে পারার মধ্যেই বড় আধ্যাত্মিকতার সন্ধান পাওয়া যায়।
নতুন ছবিতে ন’টি লুক, বদলেছে শরীরী ভাষাও
নতুন ছবিতে জিৎকে ন’টি আলাদা লুকে দেখা যাবে। চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্থেটিক মেকআপ, পোশাক, শরীরী ভাষা এবং কণ্ঠস্বরেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে তাঁকে।
অভিনেতার মতে, প্রস্থেটিক মেকআপ এবং পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে মেকআপ আর্টিস্ট ও ড্রেসারের বড় ভূমিকা ছিল। তাঁর নিজের দায়িত্ব ছিল চিত্রনাট্য অনুযায়ী চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। সেই জন্য যথেষ্ট হোমওয়ার্ক এবং পরিশ্রম করেছেন তিনি।
‘প্রতিটি ছবিতে দর্শক যেন অন্য জিৎকে দেখতে পান’
দেশাত্মবোধক আবহ থাকলেও নিজের নতুন ছবিকে শুধুমাত্র ‘দেশাত্মবোধক ছবি’ বলতে নারাজ জিৎ। তাঁর মতে, এটি মূলত একটি বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক ছবি। প্রথম দৃশ্য থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে বিনোদন দেওয়াই ছবির অন্যতম লক্ষ্য।
অভিনেতার ইচ্ছা, প্রতিটি ছবির পর দর্শক যেন তাঁর অভিনীত চরিত্রটিকে আলাদা ভাবে মনে রাখেন। ‘শেষ থেকে শুরু’-তে বাংলাদেশি মুসলিম চরিত্র এবং ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এ আইপিএস অফিসারের চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, শিল্পী হিসাবে এই বৈচিত্র্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ছবিতে অনন্ত সিংহের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁর জীবনের সংঘর্ষ এবং আত্মত্যাগ সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে জিৎকে। এমন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া যে কোনও অভিনেতার কাছেই আকর্ষণীয় বলে মনে করেন তিনি।
‘জঙ্গলে হায়না-শেয়ালের উৎপাত বেড়েছে…’
প্রায় দু’বছর পর তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবির একটি সংলাপও সেই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। জিৎ মজার ছলে বলেন, “জঙ্গলে হায়না আর শেয়ালদের উৎপাত বেড়েছে, তাই এই সিংহকেই ফিরে আসতে হল!”
তবে পর্দায় ‘নতুন জিৎ’-কে দেখানোর ইচ্ছাটাই যে তাঁর মূল লক্ষ্য, সাক্ষাৎকারে বার বার সেই কথাই স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।