রদ্রিকে ঘিরে ‘এল ক্লাসিকো’!
বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রিকে দলে ভেড়াতে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির তারকা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে ঘিরে ট্রান্সফার বাজারে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট।
২০১৯ সালে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রদ্রি ক্লাবটির সাফল্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একাধিক ট্রফি জয়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রদ্রি সেই বিরল ফুটবলারদের একজন, যাঁদের ঝুলিতে রয়েছে বিশ্বকাপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ব্যালন ডি’অর— তিনটিই। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও স্পেনের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি।
রদ্রির সঙ্গে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬-২৭ মরসুমের শেষে। সেই সুযোগেই তাঁকে দলে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, দুই ক্লাবই প্রায় সমপরিমাণ ট্রান্সফার ফির প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে সিদ্ধান্তের ভার এখন অনেকটাই রদ্রির উপর— তিনি কোন ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপাতে চান, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই মুহূর্তে বার্সেলোনা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। কারণ, কাতালান ক্লাবে জাতীয় দলের একাধিক সতীর্থের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবেন রদ্রি। পাশাপাশি, বার্সেলোনা নাকি তুলনামূলক বেশি বেতনের প্রস্তাবও দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টার সিটির সঙ্গে নতুন চুক্তি না করায় জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে যে, তিনি এবার নিজের দেশেই ফিরে খেলতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ দীর্ঘদিন ধরেই রদ্রিকে নিজেদের মিডফিল্ডের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছে। তবে বার্সেলোনার আগ্রহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের গুরুতর চোট। বিশ্বকাপে লিগামেন্টে চোট পাওয়ায় ডাচ মিডফিল্ডারকে মরসুমের শুরুর কয়েক মাস পাওয়া যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে পেদ্রির উপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার খুঁজছে বার্সা, আর সেই কারণেই রদ্রিকে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে।
রদ্রির অতীতও এই ট্রান্সফার জল্পনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের যুব অ্যাকাডেমিতে তাঁর ফুটবলজীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। আবার কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে বিশ্বের সেরা ক্লাব বলেও মন্তব্য করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে সেখানে খেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।
এখন নজর একটাই— স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত কি সিটিতেই থেকে যাবেন, নাকি স্প্যানিশ ফুটবলের দুই মহাশক্তির একটির জার্সি গায়ে চাপিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।