বাঁকিপুরে বিজেপিকে বড় ধাক্কা!
বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বড় রাজনৈতিক চমক দেখালেন জনসুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। দীর্ঘদিন ‘ভোটকুশলী’ হিসেবে পরিচিত থাকার পর প্রথম বার নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই আসন ছিনিয়ে নিলেন তিনি। শুধু বিহারই নয়, একই দিনে মধ্যপ্রদেশের দতিয়া এবং গুজরাতের মঞ্জলপুর উপনির্বাচনের ফলও বিজেপির ভোটভিত্তি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে।
বাঁকিপুরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রায় ১৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি পেয়েছেন ৬৩ হাজারের বেশি ভোট, যেখানে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারের ঝুলিতে এসেছে প্রায় ৪৫ হাজার ভোট। আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী প্রায় ১৫ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
এই আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালের আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বার জয়ী হয়েছিলেন নিতিন নবীন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর তিনি বিধায়ক পদ ছাড়ায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। প্রথমে ঘোষিত প্রার্থীকে সরিয়ে পরে নীরজ কুমারকে প্রার্থী করলেও শেষ পর্যন্ত ফল বদলানো যায়নি।
প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক যাত্রাও ছিল ঘটনাবহুল। এক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর জনসুরাজ পার্টি কোনও আসন জিততে পারেনি। কিন্তু সেই ব্যর্থতার পরও তিনি সংগঠন গড়ে তোলা, রাজ্যজুড়ে পদযাত্রা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অভিবাসন ও বিহারের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রচার চালিয়ে যান। উপনির্বাচনের ফল সেই কৌশলেরই প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই উপনির্বাচনের ফল শুধু বিহারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মধ্যপ্রদেশের দতিয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ ছয় হাজারের বেশি ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে আসনটি দখল করেছেন। অন্যদিকে গুজরাতের মঞ্জলপুরে বিজেপি জয় ধরে রাখলেও তাদের ভোটের হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের ভোটের হার সেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ফল ঘোষণার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, এই জয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাঁকিপুরের মানুষের বার্তা। তাঁর দাবি, ভোটাররা এমন নেতৃত্ব চান, যার ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন এবং যিনি বিহারের ভবিষ্যৎ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন।
অন্যদিকে বিজেপি পরাজয় মেনে নিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনের প্রভাব উপনির্বাচনের ফলে পড়েছে। তবে দল জানিয়েছে, ফল যাই হোক, তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলবে না।
বাঁকিপুরের এই ফলাফল বিহারের রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোরের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল। একই সঙ্গে আগামী দিনে বিজেপি, কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।