বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে ফিফার !
বিশ্বকাপ শেষ হতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিচালনা আরও লাভজনক করতে নতুন একটি সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা করছে তারা। সেই সংস্থার আংশিক মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য নিয়েছে ফিফা। তবে এই পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ পরিবারের নাম উঠে আসায় শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘FIFA Forward Enterprises’ নামে একটি পৃথক বাণিজ্যিক সংস্থা তৈরি করা হবে। এই সংস্থা বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার, স্পনসরশিপ, সম্প্রচার এবং অন্যান্য রাজস্বের দেখভাল করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থার প্রায় ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে।
ফিফার দাবি, এই বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ সরাসরি সদস্য দেশগুলির ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ‘FIFA Fast Forward Program’-এর মাধ্যমে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফিফার হিসাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতিটি সদস্য দেশ উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, যা তৃণমূল স্তর থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।
তবে এই পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফিফার ৩৭ সদস্যের কাউন্সিল প্রস্তাবটি অনুমোদন করলেও বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ১০৬টি সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান JP Morgan এই প্রকল্পে ফিফাকে পরামর্শ দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন সংস্থার নেতৃত্বে আসতে পারেন জোশুয়া কুশনার, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ভাই। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ পরিবারের নাম সামনে আসতেই আলোচনা তীব্র হয়েছে।
ফিফার অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, পরিকল্পনাটি সফল হলে আগামী চার বছরে সংস্থার মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সেই অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং সদস্য দেশগুলির আর্থিক সহায়তায় ব্যয় করার কথা জানিয়েছে ফিফা।
তবে সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার আংশিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিলে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্পোরেট প্রভাব বাড়তে পারে। ফলে ফিফার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখন সদস্য দেশগুলির ভোটের উপরই নির্ভর করছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?