সুপ্রিম কোর্টের নতুন নিয়ম!
সুপ্রিম কোর্টের লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবস্থা চালু থাকলেও এবার থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হতে চলেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে কোনও মামলার জরুরি শুনানির আবেদন বা ‘মেনশনিং’ চলাকালীন লাইভ সম্প্রচারের অডিয়ো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। অর্থাৎ ভিডিও দেখা গেলেও সেই সময় আদালতে কী আলোচনা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম সরাসরি শুনতে পারবেন না।
শীর্ষ আদালতের এই নতুন নির্দেশকে বিচারপ্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন টানার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, কোনও মামলাকে জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন বিচারিক শুনানির অংশ নয়, বরং এটি আদালতের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তাই এই অংশকে সংবাদ হিসেবে প্রচার বা সরাসরি সম্প্রচার করার প্রয়োজন নেই।
এই নির্দেশ কার্যকর হলে আইনজীবীরা যখন কোনও মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানাবেন বা মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ করবেন, তখন সেই কথোপকথন আর লাইভ অডিয়োর মাধ্যমে বাইরে পৌঁছাবে না। একইভাবে, আদালত সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে যে তাৎক্ষণিক মন্তব্য বা পর্যবেক্ষণ করবে, সেটিও সরাসরি শোনা যাবে না।
কয়েক দিন আগেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ‘মেনশনিং’ বা জরুরি শুনানির আবেদন আদালতের প্রশাসনিক কাজের অংশ। এটি কোনও মামলার মূল বিচারপ্রক্রিয়া নয়। তাই এই ধরনের আলোচনাকে সংবাদমাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমের মতো গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা উচিত নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছিলেন। বুধবারের নির্দেশের মাধ্যমে সেই অবস্থানই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হল।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই সময় বেঞ্চের একটি মন্তব্য— সংশ্লিষ্ট ভিডিও দেখার জন্য আদালতের হাতে সময় নেই— সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। এরপর থেকেই ‘মেনশনিং’ পর্বের সম্প্রচার নিয়ে নতুন নীতি আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে মূল মামলার শুনানির লাইভ স্ট্রিমিংয়ে কোনও প্রভাব পড়বে না। আদালতের নিয়মিত বিচারপ্রক্রিয়া আগের মতোই অডিয়ো-ভিডিয়ো সহ সম্প্রচারিত হবে। পরিবর্তনটি শুধুমাত্র জরুরি তালিকাভুক্তির আবেদন বা ‘মেনশনিং’ পর্বের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গোপনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিচারিক শুনানি এবং তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?