মার্কিন হামলার মাঝেই ইরানে ‘কট্টরপন্থী অভ্যুত্থান’!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। পশ্চিমি বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলি দেশের নরমপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন ও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কারণ, তাঁরা যুদ্ধের মধ্যেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর মতো বিষয়েও তাঁদের নমনীয় অবস্থান কট্টরপন্থীদের একাংশের বিরাগভাজন করেছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের সময়। সেখানে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও স্লোগান ওঠে। বিদেশমন্ত্রী আরাঘচির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ সামনে আসে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
আরও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের জনসমক্ষে অনুপস্থিতি। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বলছেন তিনি গুরুতর আহত, আবার কেউ দাবি করছেন তিনি পর্দার আড়াল থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যদিও এই দাবিগুলির কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তাই কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বিশেষজ্ঞ আরাশ আজিজির মতে, ক্ষমতার শূন্যতা দীর্ঘদিন থাকে না। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কট্টরপন্থীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই প্রেসিডেন্ট, স্পিকার এবং বিদেশমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচার চালানো হচ্ছে।
ইরানের কট্টরপন্থী কয়েকজন সাংসদও প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, পার্লামেন্টকে যথাযথভাবে না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে, যা দেশের বিপ্লবী আদর্শকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার ক্ষমতা আরও বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ইরানে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটানো সহজ নয়। দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বহু স্তরে নিয়ন্ত্রিত। ফলে কট্টরপন্থীদের চাপ বাড়লেও তা সফল অভ্যুত্থানে পরিণত হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ততই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হতে পারে। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে ক্ষমতার টানাপোড়েন— এই দুইয়ের মধ্যে তেহরানের নেতৃত্ব আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?