ভাবতে ভাবতেই সিদ্ধান্তহীন? অতিরিক্ত চিন্তার অভ্যাসে কী ভাবে ক্ষতি হচ্ছে রোজের জীবনে

অতিরিক্ত চিন্তার অভ্যাসে কী ভাবে ক্ষতি হচ্ছে রোজের জীবনে! ভাবনাচিন্তা করা খারাপ কিছু নয়। বরং কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি বোঝা, তথ্য যাচাই করা কিংবা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার…

September 15, 2026
0 min read

অতিরিক্ত চিন্তার অভ্যাসে কী ভাবে ক্ষতি হচ্ছে রোজের জীবনে!

ভাবনাচিন্তা করা খারাপ কিছু নয়। বরং কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি বোঝা, তথ্য যাচাই করা কিংবা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য চিন্তা করা জরুরি। কিন্তু একই বিষয় নিয়ে বার বার ভাবতে থাকা, সম্ভাব্য সব খারাপ দিক কল্পনা করতে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তেই পৌঁছতে না পারা সমস্যার কারণ হতে পারে। মনোবিদদের ভাষায় এই প্রবণতাকেই বলা হয় ‘ওভারথিংকিং’।

ভাবার সঙ্গে অতিরিক্ত চিন্তার পার্থক্য এখানেই। স্বাভাবিক চিন্তা কোনও সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ওভারথিংকিংয়ে একই চিন্তা বার বার মাথায় ঘুরতে থাকে। সমাধান মেলে না, বরং বাড়তে থাকে উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা। ধীরে ধীরে এই অভ্যাসের প্রভাব পড়তে পারে কাজকর্ম, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাসের উপরও।

১. কাজ শুরু করতেই ভয়

অতিরিক্ত চিন্তার অন্যতম বড় সমস্যা হল সিদ্ধান্তহীনতা। ভুল হয়ে যাওয়ার ভয় থেকে মনে হতে পারে, আরও কিছু তথ্য জানা দরকার, আরও একটু সময় নেওয়া উচিত বা আরও ভাল সুযোগের অপেক্ষা করা প্রয়োজন। ফলে কাজটি শুরু করাই হয় না। সময় পেরিয়ে যায়, অথচ সিদ্ধান্ত থেকে যায় একই জায়গায়।

অনিশ্চয়তা এড়াতে গিয়ে আমরা অনেক সময় ভাবতে থাকি, কোন সিদ্ধান্তটি একেবারে নিখুঁত হবে। কিন্তু জীবনে কোনও সিদ্ধান্তের ফলাফল সম্পর্কে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বরং ভুল সিদ্ধান্ত হলেও পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা নিজের মধ্যে তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. নিজের উপর বিশ্বাস কমে যায়

বার বার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিলে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার উপরও আস্থা কমতে পারে। ধরুন, কোনও বিষয়ে দু’টি বিকল্পের মধ্যে বেছে নিতে হবে। দিনের পর দিন ভেবেও আপনি কোনও সিদ্ধান্ত নিলেন না। পরের বার একই পরিস্থিতি তৈরি হলে আগের অভিজ্ঞতা থেকেই মনে হতে পারে, ‘আমি তো ঠিক করে সিদ্ধান্ত নিতেই পারি না।’

এ ভাবেই তৈরি হতে পারে ওভারথিংকিংয়ের একটি চক্র। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিখুঁত হতে হবে— এমন প্রত্যাশা না রেখে অতীতে নেওয়া এমন সিদ্ধান্তগুলির কথা মনে করা যেতে পারে, যেগুলি হয়তো নিখুঁত ছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সামলে নিতে পেরেছিলেন।

৩. পরে আফসোস আরও বাড়তে পারে

ভুল সিদ্ধান্তের পর আফসোস হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত না নিলেও আফসোস থেকে যায়। বরং তখন মনে হতে পারে, ‘একবার চেষ্টা করলে কী হত!’ তাই শুধু ভুল হওয়ার ভয়েই কোনও পদক্ষেপ না করে নিজের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ফলাফল বিচার করে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

অর্থাৎ, সব সময় বেশি ভাবলেই ভাল সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কোথায় থামতে হবে, কখন তথ্য সংগ্রহ শেষ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ভুল হলেও কী ভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়— এই জায়গাগুলি বুঝতে শেখাই অতিরিক্ত চিন্তার অভ্যাস কমানোর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *