‘সব শেষ করে দিয়েছেন, গাছও রেহাই পায়নি’! বন ধ্বংস নিয়ে প্রাক্তন সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর, ১০ কোটি গাছ লাগানোর ডাক

বন ধ্বংস নিয়ে প্রাক্তন সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর! রাজ্যের বনভূমি ধ্বংস ও পরিবেশের অবনতির জন্য পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে ‘অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬’-এর…

July 14, 2026
1 min read

বন ধ্বংস নিয়ে প্রাক্তন সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর!

রাজ্যের বনভূমি ধ্বংস ও পরিবেশের অবনতির জন্য পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে ‘অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬’-এর সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নাম না করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আগের সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের নামে শুধু প্রকৃতিই নয়, গাছপালাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যজুড়ে ১০ কোটি গাছ লাগানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যও ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে নিজ হাতে বৃক্ষরোপণের পর শুভেন্দু বলেন, সরকারি কাজ বা নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টারে চড়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা দেখলে তাঁর কষ্ট হয়। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, তরাই ও ডুয়ার্সের বনাঞ্চলের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি শিউরে ওঠেন। তাঁর কথায়, কয়েক বছর আগেও যে সব এলাকায় ঘন অরণ্য ছিল, আজ সেখানে সেই সবুজ আর চোখে পড়ে না।

এই প্রসঙ্গেই তিনি পূর্বতন সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “সব তো ধ্বংস করে দিয়েছেন, গাছটাকেও ছাড়েননি।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যের পরিবেশ রক্ষা করতে হলে ব্যাপক বনসৃজন ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। পাশাপাশি বনভিত্তিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে বহু শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থা পরিবেশ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তাঁর দাবি, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় সংস্থাগুলি জমির এক-তৃতীয়াংশে গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা আজ “কংক্রিটের জঙ্গলে” পরিণত হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে চলতি বর্ষে ১০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যখন এক বছরে ২৬ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিতে পারেন, তখন আয়তনে ছোট পশ্চিমবঙ্গ কেন ১০ কোটির লক্ষ্য স্থির করতে পারবে না? একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লোকসভা কেন্দ্রেও ১ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৫ জুন রাজ্য সরকার প্রথমে ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্য স্থির করেছিল। প্রথম দিনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লক্ষ চারা রোপণ, কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৯ লক্ষ গাছ লাগানো সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, সংস্থাটি চলতি বছরে আরও ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয় বলেও সতর্ক করেন শুভেন্দু। নিজের হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন লাগানো গাছের অন্তত দুই থেকে তিন বছর নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারি না হলে অধিকাংশই বাঁচে না। তাঁর মতে, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *