এসপি পাপিয়াকে নির্দেশ শুভেন্দুর, শাহের পরামর্শে ক্ষুদিরামের কেশপুরে ৫ কোটি বরাদ্দ
‘নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ’ বলার কারণে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া পুরনো মামলা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কেশপুরে ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটে মোহবনিতে গিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে এই নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিপ্লবীর স্মৃতিতে মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মোহবনিতে তাঁর জন্মভিটেতে শ্রদ্ধা জানাতে যান শুভেন্দু। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে হেলিকপ্টারে যাওয়ার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোলাঘাট থেকে সড়কপথে কেশপুরে পৌঁছন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।
কেশপুরের প্রসঙ্গ উঠতেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা টেনে আনেন শুভেন্দু। নিজেকে ‘অবিভক্ত মেদিনীপুরের সন্তান’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১১ অগস্ট ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা জানাতে কোনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছেন, এমন নজির তাঁর জানা নেই।
এর পরেই পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখানে অনেকে অত্যাচার সহ্য করেছে ‘নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ’ বলার জন্য। সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করবেন। আমি কিছুই ভুলিনি, কিচ্ছু না।’’
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় তাঁকে সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, তিনি কেশপুরে এসেছিলেন, কিন্তু মানুষকে সভায় আসতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘‘আপনি ওই মামলাটা বার করবেন। যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের আমি জেলে দেখতে চাই।’’
ক্ষুদিরামের স্মৃতিতে ৫ কোটি টাকা
এ দিন মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্ষুদিরামের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে সেখানে সংগ্রহশালা, গ্যালারি, লেজ়ার শো এবং অতিথি আবাস তৈরি করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাজ শুরুর আগে ডিটেলস প্রোজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরি করতে হবে। বর্ষার মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবর থেকে কাজ পুরোদমে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগামী বছর এসে কাজের অগ্রগতি দেখতে চান বলেও জানান শুভেন্দু।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৫ কোটি টাকা যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাঁর কথায়, আরও অর্থের প্রয়োজন হলে সেই অর্থের ব্যবস্থা করা হবে, টাকার অভাব উন্নয়নের পথে বাধা হবে না।
‘শাহ ফোন করে ক্ষুদিরামের কথা বলেছেন’
ক্ষুদিরামের জন্মভিটের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কয়েক দিন আগে শাহ ফোন করে মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পৈতৃকভিটের বেহাল দশার কথা জানিয়েছিলেন। সেখানে কী কী উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়েও জানতে চেয়েছিলেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি শাহকে জানিয়েছিলেন যে ১১ অগস্ট তাঁর মোহবনিতে যাওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তখন শাহ তাঁকে সেই কাজ অবশ্যই করার পরামর্শ দেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি অমিত শাহজিকে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি কেশপুরের মোহবনির কথা, বিপ্লবীর কথা জানেন এবং তাঁকে নিয়ে আমাকে উপদেশ দিয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘ বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল জমানায় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে শুধু মুখ, দল বা ঝান্ডার পরিবর্তন নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থারও পরিবর্তন দেখতে পাবেন মানুষ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।