বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক!
বারুইপুরের কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বারুইপুরে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রথমে পুলিশ সুপারের (এসপি) দফতরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি, গণপিটুনিতে নিহত এক যুবকের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে তাঁর।
এসপি অফিসে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। তদন্তের অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সেখানেই পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই বারুইপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হল আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। ঘটনার জেরে এলাকায় বিক্ষোভের সময় গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুও হয়েছে।
এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী সকলকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনেও কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সোমবার তিনি জানিয়েছিলেন, পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরাসরি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। যদিও বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক হয়। সেখানে এলাকার পরিস্থিতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এ দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বারুইপুরে যাতায়াত ছিল। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এলাকায় যায়। একই সময়ে সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধিও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এসপি দফতরের বৈঠক শেষে সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী সকলের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, তদন্তে কোনও অপরাধী যেন রেহাই না পায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রুখতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বারুইপুরের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগপত্র পেশ করে দোষীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?