আর্জেন্টিনা জিতলেও আত্মতুষ্ট নন মেসি!
কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল কাবো ভার্দে। কিন্তু মাঠের লড়াই ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। ১২০ মিনিটের কঠিন পরীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবু নিজের দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন অধিনায়ক লিয়োনেল মেসি। বরং প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কাবো ভার্দের প্রশংসাই শোনা গেল তাঁর মুখে।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, এই জয় সহজে আসেনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। বিশ্বকাপে কেউ কাউকে কিছু উপহার দেয় না। এখন বিশ্রাম নিয়ে এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কাবো ভার্দেকে ওদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন।’’
শুধু সৌজন্যের খাতিরে নয়, পরে আরও বিস্তারিতভাবে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনি মনে করিয়ে দেন, কাবো ভার্দে এর আগেও স্পেন এবং উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়েছিল। তাই তাদের পারফরম্যান্স কোনওভাবেই কাকতালীয় নয়।
মেসির কথায়, ‘‘প্রথম গোল করাটাই সবচেয়ে কঠিন ছিল। আমরা সেটি করতে পেরেছিলাম। ভেবেছিলাম এরপর হয়তো ম্যাচটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঠিক উল্টোটা হয়েছে। কাবো ভার্দে নিজেদের পরিকল্পনা দারুণভাবে কার্যকর করেছে এবং আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।’’
নিজেদের খেলার দিকেও আঙুল তুলেছেন মেসি। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে পারেনি। বেশ কিছু জায়গায় ভুল হয়েছে, যা ভবিষ্যতে শুধরে নিতে হবে। কারণ নকআউট পর্বে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চোকাতে হতে পারে।
আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘‘অনেকে হয়তো ছোট দেশের নাম শুনে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়। আমরা কখনও তা করিনি। শুরু থেকেই জানতাম কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য এখানেই। এই পর্যায়ে সব দলের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। ভালো খেললেও প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, আর নিজের সেরাটা দিতে না পারলে সেই লড়াই আরও কঠিন হয়ে যায়।’’
এই কঠিন পরীক্ষায় জয় পেলেও মেসির বার্তা স্পষ্ট— আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে আরও উন্নত ফুটবল খেলতে চায় আর্জেন্টিনা।
রাউন্ড অফ ১৬-এ আর্জেন্টিনার সামনে আরও বড় পরীক্ষা। তাদের প্রতিপক্ষ মিশর। সেই ম্যাচে মুখোমুখি হবেন বিশ্বের দুই তারকা ফুটবলার— লিয়োনেল মেসি এবং মহম্মদ সালাহ। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেই মহারণের দিকেই।